30.2 C
Durgapur
Monday, June 14, 2021

ভোটের(Vote) দরজায় একনজরে পশ্চিম বর্ধমান (Paschim Bardhaman)

চিত্তরঞ্জন গড়াই, দুর্গাপুর : শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতবর্ষের শিল্প মানচিত্রে পশ্চিম বর্ধমান জেলার স্থান গুরুত্বের সঙ্গে সূচিত আছে । দেশের প্রথম কয়লা খনি তৈরি হয়েছিল রানীগঞ্জে 1774 সালে । ইস্কো স্টিল প্লান্ট তৈরি হয় 1918 সালে। এরপর স্বাধীনোত্তর ভারতে আরো অনেক কয়লা খনি , বান´ স্ট্যান্ডার্ড , হিন্দুস্তান কেবলস , চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কস , দুর্গাপুর ইস্পাত ও মিশ্র ইস্পাত কারখানা , হিন্দুস্তান ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন লিমিটেড , মাইনিং অ্যান্ড এ্যালায়েড মেশিনারী কর্পোরেশন( এম এ এম সি), ভারত অফথালমিক গ্লাস লিমিটেড ‘র মতো রাষ্ট্রায়াত্ত কারখানা গড়ে ওঠে আসানসোল ও দুর্গাপুরে । এছাড়া রাজ্য সরকারের উদ্যোগে দুর্গাপুর প্রোজেক্ট লিমিটেড , দুর্গাপুর কেমিক্যালস , বেসরকারি উদ্যোগে, দুর্গাপুর সিমেন্ট, ফিলিপস কার্বন , গ্রাফাইট সহ বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরি হয় । পরবর্তীতে ইসকো কারখানা ও কয়লা খনি গুলি জাতীয়করণ হয় ।এই সমস্ত শিল্প সংস্থা গুলি কে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠে অসংখ্য অনুসারী শিল্প কারখানা মূলত বেসরকারি উদ্যোগে । উল্লেখযোগ্য এই সমস্ত কারখানা গুলিতে শ্রমিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা তো বটেই , এমনকি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কর্মে নিয়োজিত হন এই কারখানাগুলোতে । আধুনিক শিল্পক্ষেত্রের মানুষগুলির সুস্থ জীবন যাপনের জন্য গড়ে ওঠে উন্নত ও আধুনিক মানের টাউনশিপ । এখানে শিক্ষা স্বাস্থ্য সংস্কৃতি ব্যবসা ও বিনোদনের জন্য গড়ে ওঠে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য কেন্দ্র অডিটোরিয়াম খেলার মাঠ ও ছোট-বড় অসংখ্য ব্যবসা কেন্দ্র । বলা যেতে পারে চলমান ভারতবর্ষের মহান ঐক্য আর সম্প্রীতির কলরোলে উদ্ভাসিত ছিল অবিভক্ত বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল । আজকের পশ্চিম বর্ধমান জেলা ।
2014 সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এন ডি এ সরকার ক্ষমতায় আসে কেন্দ্রে । দ্বিতীয়বারের জন্য তারা জয়যুক্ত হয়ে টানা সাত বছর দেশ শাসন করছে । রাজ্যে 2011 সাল থেকে দুটি পর্যায়ে প্রায় 10 বছর ক্ষমতায় রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার । দুই নেতা-নেত্রীর ঘোষণায় শিল্পায়নের পক্ষে সরব সওয়াল থাকে বারে বারে । বেকার সমস্যা দূর করার কথা বলা হয় ভোটের আগে । প্রধানমন্ত্রী দেন প্রতিবছর দু কোটি বেকারের চাকরির প্রতিশ্রুতি । আর মুখ্যমন্ত্রী বলেন ইতিমধ্যে রাজ্য 40 শতাংশ বেকার কমিয়ে দিয়েছেন তিনি । কিন্তু বাস্তব চিত্র বড়ই মর্মান্তিক । এই সমস্ত মহান ব্যক্তিদের ! তথ্যের সঙ্গে যা মেলে না । বান স্ট্যান্ডার্ড , হিন্দুস্তান কেবলস এর মত রাষ্ট্রায়ত্ত কারখানা বন্ধ করেছে কেন্দ্রের বর্তমান সরকার । সিদ্ধান্ত নিয়েছে ষোলটি কয়লা খনি বন্ধের । চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ওয়ার্কসকে কর্পোরেট করার তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে । এই কথা জানান সর্বভারতীয় শ্রমিক নেতা ও প্রাক্তন সাংসদ আর সি সিং । তিনি জানান আমাদের গর্ব আর ঐতিহ্যের শিল্পাঞ্চল কে মরুভূমিতে পরিণত করেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার । সি আই টি ইউ পশ্চিম বর্ধমানের সম্পাদক ও প্রাক্তন সাংসদ বংশ গোপাল চৌধুরী ক্ষোভের সঙ্গে জানান দুর্গাপুরের এম এ এম সি , বি ও জি এল , এইচ এফ সি এল
আসানসোল সাইকেল কর্পোরেশন খোলার জন্য বারে বারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে । চিঠি দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে । সংসদে বিষয়টিকে উত্থাপন করা হয়েছে বামেদের পক্ষ থেকে । কিন্তু বন্ধ কারখানা খোলা দুরস্ত । বরং চালু সংস্থাগুলি বিলগ্নীকরণ এর চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় সরকার ।
পাশাপাশি রাজ্য সরকার ডিপিএল , ডি সি এলের মত প্রতিষ্টিত শিল্প বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান । দূর্গাপুর পুর্ব ও দুর্গাপুর পশ্চিম এর সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী যথাক্রমে আভাস রায়চৌধুরী ও দেবেশ চক্রবর্তী ভোট প্রচারে জানাচ্ছেন কেন্দ্রীয় সরকার অনেকদিন ধরেই দুর্গাপুরে মিশ্র ইস্পাত কারখানা( এ এস পি )কে বিলগ্নীকরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । এখন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ( ডিএসপি )কে নিয়েও একই চিন্তা এদের । তবে যেভাবে ঐক্যবদ্ধ লড়াই এর মাধ্যমে এএসপি বিলগ্নীকরণ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে , ডিএসপির ক্ষেত্রেও তা-ই করা হবে । সরকারের এই নীতির পক্ষে যারা অর্থাৎ বিজেপি ও তৃণমূল কিভাবে শিল্পায়ন করবে এই প্রশ্ন উঠছে জনমনে । সংযুক্ত মোর্চার তরফে বলা হয়েছে বামফ্রন্ট আমলে এই জেলায় প্রায় দশ হাজার অতি ক্ষুদ্র , ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা তৈরি হয়েছে । কিন্তু তৃণমূলের আমলে গত দশ বছরে নতুন কারখানা তো হয়নি উপরন্তু 612 টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে ।
তথ্য বলছে এই সময়কালে দেশে বেকারত্বের হার শীর্ষে পৌঁছেছে । এমনকি বাংলাদেশ-পাকিস্তান ভুটানের থেকে বেশি বলে জানা গেছে । প্রতিটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী সোনার বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন । মুখ্যমন্ত্রী ও তার আদরের ভাইপো অবশ্য বলছেন সোনার বাংলা ইতিমধ্যেই তারা তৈরি করেছেন । প্রশ্ন উঠেছে বন্ধ কারখানার শ্রমিকদের চাপা কান্নার গোঙানি এরা কি শুনতে পাচ্ছে না ? জেলা তথা রাজ্যের শতশত সোনার ছেলে মেয়ে লেখাপড়া শেষ করে চাকরি না পেয়ে চলে যাচ্ছে বাইরে । তবে পশ্চিম বর্ধমান জেলার নটি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটারদের একটা বৃহৎ অংশ যুবক-যুবতী । যন্ত্রণা দীর্ণ হৃদয়ে ফাঁকা বুলিতে তাদের পেট ভরবে না বিজেপি ও তৃণমূল প্রার্থীরা অবশ্য তথ্য ও বাস্তবের ধার না ধেরে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছেন ক্রমান্বয়ে । সেখানে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থীরা বাস্তব তথ্য ও পরিসংখ্যান দিয়ে বোঝাচ্ছেন মানুষকে । তারা এটা সরবে বলছেন সংযুক্ত মোর্চার ঘোষণাপত্রে প্রথম দুয়ে জায়গা পেয়েছে ” বন্ধ শিল্প খোলো, নতুন শিল্প গড়ো , যুবকদের কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করো ” এই জীবন্ত পংক্তি । আগামী 26 শে কুৎসা অপপ্রচার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর ভয়-ভীতি কে উপেক্ষা করেই ভোটাররা বোতাম টিপবেন ইভিএমে । তাদের প্রতিদিনের কাছে পাওয়া অসাম্প্রদায়িক , সৎ সাহসী ও পরিশ্রমী বন্ধুদের পক্ষেই । এমনই সাল, মহুয়া, কৃষ্ণচূড়ার দেশের বাতাসের গুঞ্জন । মানুষের চোখের ভাষার আশা দীপ্ত ইঙ্গিত ।

এই মুহূর্তে

x