28.4 C
Durgapur
Sunday, August 1, 2021

মিনি বাইক বানিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখছে বাঁকুড়ার যুবক

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ বাইক চালানোর সাধ কম বেশি সবার মধ্যেই থাকে। কিন্তু বাইকের আকাশ ছোঁয়া দাম আর পেট্রোলের খরচের ভয়ে অনেকেই তা কিনতে ভয় পান। তাই সাধ থাকলেও মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে বাইক কেনার স্বপ্ন। তবে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছেন বিষ্ণুপুরের রবীন দাস কর্মকার

স্বল্প খরচে বাইকের মিনি সংস্করণ (Mini-Bike) অর্থাৎ ব্যাটারি চালিত ই-সাইকেল বানিয়ে তাকে লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি । দু চাকার এই যানে বসে এক্সিলেটরে চাপ দিলেই গড়গড়িয়ে চলতে শুরু করে (Mini-Bike) ই-সাইকেল । তাও আবার মহার্ঘ পেট্রোল ছাড়াই ।

বিষ্ণুপুর শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের শালবাগান এলাকার বাসিন্দা রবীন বাড়িতে বসেই বাতিল লোহালক্কড় আর যন্ত্রপাতি দিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন বাইকের এই মিনি সংস্করণ (Mini-Bike) । বর্তমানে এই ই-সাইকেল নিয়ে দিব্যি শহর জুড়ে টহল মারছেন । এলাকায় এই মিনি বাইক দেখে অনেকেই ইচ্ছে প্রকাশ করছেন সেই বাইক কেনার।

পেশায় হাইড্রোলিক মেকানিক রবীন দাস কর্মকার। অভাবের সংসার ,সামান্য মেকানিকের কাজ করে দিন গুজরান হয়। ছোট বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁকেই ধরতে হয়েছে সংসারের হাল। তাই বাইক কেনার স্বপ্ন রয়ে গেছিল অধরা। কিন্তু দীর্ঘ লকডাউনের সময় কাজের বরাত একেবারেই ছিলনা। সেই অবসরে কারিগরি বিষয়ে দক্ষ রবীনের মাথায় ঘুরতে থাকে বাইক (Mini-Bike) তৈরির ভাবনা। সেই থেকেই শুরু।

নতুন সাইকেল কেনার সামর্থ্যও না থাকায় পুরনো লোহা লক্করের আড়ত ঘুরে সাইকেলের যন্ত্রাংশ খুঁজে বানিয়ে ফেলেন ই-সাইকেল। রবীনবাবু জানান, ‘ছোটবেলা থেকেই বাইকের স্বপ্ন ছিল । কিন্তু মা স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়ে মাস শেষে হাতে আর তেমন কিছুই থাকত না। লকডাউন চলার সময় মিনি বাইক বানানোর ভাবনা আসে মাথায়। সেই ভাবনা থেকেই পুরনো পাইপ জুড়ে সাইকেলের বডি বানান প্রথমে । চাকা থেকে মাড গার্ড সবই পুরনো জোগাড় করে তাতে মটোর এবং ১২ ভোল্টের ২ টি ব্যাটারি লাগিয়ে তৈরী করেছেন মিনি বাইক (Mini-Bike) বা ই সাইকেল ।

ব্যাটারি দুটি ফুল চার্জ হতে ১ ইউনিটেরও কম বিদ্যুৎ লাগে। একবার ফুল চার্জ দিলে ই সাইকেল চলবে ৩০-৩৫ কিলোমিটার। তিনি জানান, পুরনো যন্ত্রাংশ দিয়ে এই মিনি বাইক (Mini-Bike) বানাতে খরচ পড়ছে ১২-১৩ হাজার টাকা। এতো অল্প টাকায় বাইক চড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে এখন অনেকেই নাকি তার কাছে মিনি বাইক বানিয়ে দেওয়ার জন্য আবেদন করছেন।

তিনি চান , এই বাইকের পেটেন্ট অর্থাৎ সরকারিভাবে স্বীকৃতি। যাতে সরকারি সাহায্যে একটি সফল উদ্যোগ গড়ে তোলা যায় আগামী দিনে।

এই মুহূর্তে

x