29.2 C
Durgapur
Sunday, October 25, 2020

৪৫০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে পাত্রসায়েরের হাজরাবাড়ির পুজো

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ সময় বদলেছে, সভ্যতায় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া, কিন্তু প্রাচীন রীতি মেনে আজও স্বমহিমায় পূজিত হন হাজরাবাড়ী মা দুর্গা (Hazrabarir Puja) । বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের ব্লকের হাজরা জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো (Hazrabarir Puja) এলাকার সবথেকে প্রাচীন পুজোরগুলির মধ্যে একটি ।

ইতিহাস বলছে ,অতীতে বর্ধমান রাজার সঙ্গে বিষ্ণুপুরের মল্লরাজার সীমানা অতিক্রম করে খাজনা আদায় করা নিয়ে প্রায়ই সংঘর্ষ লেগে থাকত। আর পাত্রসায়ের ছিল বিষ্ণুপুর এবং বর্ধমান রাজ সীমানার একেবারে শেষ অংশ। সেই কারণেই তৎকালীন অবিভক্ত বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলানিবাসী কাঞ্জিলাল চক্রবর্তীকে বিষ্ণুপুর মল্লরাজ তাঁর সেনাধ্যক্ষ হিসাবে নিযুক্ত করেন । তাঁর হাতে পাত্রসায়ের এলাকার হাজার একর জমি তুলে দিয়ে তাদের জমিদারির পত্তন করেন , এই হাজার একর জমির মালিকানা হিসেবেই চক্রবর্তী থেকে পদবী পরিবর্তন হয়ে উপাধি পান হাজরা ।

বংশের আদি পুরুষ কাঞ্জিলাল হাজরার চার সন্তান । এর মধ্যে বড় ছেলের ৪ সন্তান থাকলেও
বাকি তিন ছেলেরা নিঃসন্তান ছিলেন । বংশানুক্রমে জমিদারি কিভাবে চলবে এই নিয়ে সেনাধ্যক্ষ কাঞ্জিলাল হয়ে পড়েছিলেন শোকহত । কাঞ্জিলালের বড়ছেলের তৃতীয় সন্তান হরিপদ একদিন ঘোড়ায় চড়ে খাজনা আদায় করতে যান তৎকালীন জঙ্গলাকীর্ন রাস্তায়। কিন্তু ফেরার পথে দিকভ্রষ্ট হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন । স্থানীয় রঙ্কিনী পুষ্করিণীতে জল পান করে একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন হরিপদ । সেই সময় মা দুর্গা বালিকা রূপে রঙ্কিনী পুষ্করিণী থেকে উঠে এসে পথ দেখিয়ে দেন তাঁকে ।

সেই অলৌকিক ঘটনার কথা জানিয়ে বিষ্ণুপুর মল্ল রাজাকে একটি চিঠি লেখেন হরিপদ । তারপরেই বিষ্ণুপুর রাজার অর্থানুকূল্যে শুরু হয় মহামায়ার আরাধনা। প্রতিষ্ঠিত হয় মন্দির ।

প্রায় সাড়ে চারশো বছর ধরে রীতিনীতি মেনে হয়ে আসছে হাজরাবাড়ীর মা দুর্গার আরাধনা(Hazrabarir Puja) । জমিদার পুজোর রীতিনীতি অন্যান্য সর্বজনীন পুজোর থেকে আলাদা তো হবেই । এই জমিদার বাড়িতে একচালা প্রতিমা হয়। পূজো হয় বৃহৎ নন্দিকা পুরান মতে । নিয়ম-নীতি মেনে আদিকাল থেকেই অষ্টমীর দিন হয় বলির আয়োজন ।

তবে এই বছর করোনার পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশ মেনে মুখে মাস্ক, স্যানিটাইজার ও সামাজিক দূরত্ব বিধি মেনেই করা হবে পুজো (Hazrabarir Puja) । ফুল , বেলপাতা নিজের নিজের বাড়ি থেকে এনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দেওয়া হবে মায়ের পায়ে পুষ্পাঞ্জলী । তবে বাড়ির অন্যান্য সদস্য যারা দূর দূরান্তে থাকেন তারা করোনা অবহে তাদের বাড়ির পুজোয় শামিল হতে পারবেন না । জাকঁজমকে ভাটা পড়লেও এবছরও রীতিনীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করবেন জমিদার বাড়ির সদস্যরা।

এই মুহূর্তে

দুর্গাপুজো উপলক্ষে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ বাঙালির মহা উৎসব দুর্গাপুজো (Durgapuja) । এই দুর্গাপুজো বছরে একবারই আসে। আর এই দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করেই বাঙালিরা মেতে ওঠেন...

করোনার কারণে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যেও কাঁটছাট

সোমনাথ মুখার্জী,গৌরবাজার: গৌরবাজারে মাঝপাড়ার দুর্গাপুজো (Durga Puja) ৩০০ বছরের বেশি প্রাচীন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকের গৌরবাজার গ্রামের মাঝপাড়ার...

কোতুলপুর উত্তরপল্লী অধিবাসীবৃন্দের পুজোয় মাতেন উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ করোনা মোকাবিলায় সমস্ত রকমের সাবধানতা অবলম্বন করে কোতুলপুর উত্তর পল্লী অধিবাসীবৃন্দ পুজোর (Durga Puja) শুভ সূচনা হলো। এই পুজো...

সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্নানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল দুর্গোৎসবের

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: আজ, মহাসপ্তমী। পুজোর (Durga Puja) শুরু। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে  রীতি মেনে নবপত্রিকা স্নানের মধ্যে দিয়ে শুরু হল সপ্তমীর...

কাঁকসার অভিনন্দন পূজা কমিটির দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন সাংসদ সুনীল কুমার মন্ডল

নিজস্ব প্রতিনিধি , কাঁকসা: মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় উদ্বোধন হল কাঁকসার (Kanksa) অভিনন্দন পূজা কমিটির দুর্গাপুজো। ফিতে কেটে পুজোর উদ্বোধন করলেন পুজো কমিটির সভাপতি...

পুজো পরিক্রমা ২০২০ ; আসানসোল

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: করোনা আবহে পুজো তাই একাধিক বিধি নিষেধ মাথায় রেখে পুজোর আয়োজন করেছেন উদ্যোক্তারা। উৎসবের মরসুমে কোনোভাবেই মহামারী যাতে...

বাংলার ১০ টি পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: দিল্লি থেকে বাংলার দশটি পুজোর ভার্চুয়াল উদ্বোধন (Inaugurate) করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৷ প্রধানমন্ত্রীর এই ভার্চুয়্যালি উদ্বোধনী (Inaugurate)...

পোশাক থেকে বক্তব্য, ষষ্ঠীর সকালে ‘খাঁটি’ বাঙালি হলেন নরেন্দ্র মোদী

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: মহাষষ্ঠীর সকালে সল্টলেকের ইজেডসিসির পুজো ভার্চুয়াল উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi) । এই পুজোর...
x