28 C
Durgapur
Friday, May 7, 2021

জৌলুস হারালেও ঐতিহ্যে আজও অটল সারেঙ্গার পাল জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ বদলেছে সময়, বদলেছে পরিস্থিতি। এখন আর ঝাড়বাতি জ্বলে না দালানে, বসে না জলসার আসর। জমিদারী চলে যাওয়ার সাথে সাথে জৌলুস হারিয়েছে সারেঙ্গার ধবনি গ্রামের পাল জমিদার বাড়ি ।

জৌলুস কমলেও আজও ভক্তি শ্রদ্ধা অটল থেকে পাল জমিদার বাড়িতে পূজিত হন মা দূর্গা। স্থানীয় নদী থেকে ঘট এনে হয় পুজোর (Durgapuja) সূচনা, নিয়ম নিষ্ঠা ভরে চলে পূজো। এই সময়টাতে দূর দূরান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা এসে সমবেত হন পালবাড়িতে। পুজোর (Durgapuja) কটা দিন আগের মতোই গমগম করে জমিদারবাড়ি।

১৮৪১ খ্রীস্টাব্দে ধবনীর জমিদার স্বরুপ চন্দ্র পালের স্ত্রী শ্যামা সুন্দরী স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর (Durgapuja)সূচনা করেন। জমিদার স্বরুপ চন্দ্র পালের আদি বাড়ি ছিল বর্তমান বিষ্ণুপুরের গোঁসাইপুর গ্রামে। তিনি রাইপুরের রাজ বাড়িতে কাজ করতেন এবং রাজার বিশ্বাস ভাজন হওয়ায় তদানিন্তন রাজা তাঁর রাজত্বের বেশ কিছুটা এলাকা ছেড়ে দেন স্বরুপ চন্দ্র পালকে। তিনি জমিদারীর পত্তন করেন।

শোনা যায় সেই সময়ে এলাকায় বেশ দাপট ছিল পাল জমিদারদের। জমিদারের স্ত্রী শ্যামা সুন্দরী স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজোর সূচনা করেন। তৈরী হয় মন্দির, আটচালা । পুজোর (Durgapuja) সময় আটচালায়, মন্দিরে জ্বলতো ঝাড় লন্ঠন, বসতো জলসা, আসতো কলিকাতার বিখ্যাত যাত্রার দল । ধুমধাম আর হৈ-হুল্লোড় পড়ে যেত এলাকায়।

এখন সেসব অতীত। জমিদার বাড়ির নোনা ধরা দালান এখন প্রায় ধ্বংসের মুখে, আগাছা দখল করেছে পুরানো দালানবাড়ি, ঝাড়বাতিতে মরচে পড়েছে ।

তবে তাতে কি, ভক্তি শ্রদ্ধায় এতটুকুও টান পাড়েনি জমিদার বাড়ির পুজোয়। কষ্টের মধ্যেই এই কটাদিন মাতৃ আরাধনায় মন দেন পরিবারের সদস্যরা। বৈষ্ণব মতে এখানে পুজো (Durgapuja) হয় । প্রতি বছর না হলেও এখনো মাঝে মাঝে এলাকার যাত্রা শিল্পীদের নিয়ে যাত্রাপালার আয়োজন করে পুরনো ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখেন পাল বাড়ির সদস্যরা ।

এই মুহূর্তে

x