33 C
Durgapur
Saturday, April 17, 2021

মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দুর্গাপুজোর আগে অনুষ্ঠানের আবেদন

নিজস্ব প্রতিনিধি , বীরভূম: করোনা কেড়েছে মুখের ভাত , দীর্ঘ লকডাউনের পর যেটুকুও রোজগারের আশা ছিল কোভিড বিধির কারনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে পড়েছেন বীরভূমের লোকশিল্পীরা (Folk artists) । শুধু বীরভূম নয় এই ছবি রাজ্য জুড়ে সর্বত্রই।

দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের লোক শিল্পীরা (Folk artists) l নিজেদের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে গড়ে তুলেছেন সারাবাংলা লোকপ্রসার শিল্পী কল্যাণ সমিতি l

একটা সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াবার অক্সিজেন পেয়েছিল বাংলার লোকশিল্পীরা (Folk artists) l বাংলার বাউল ভাদু ,টুসু ,রায়বেঁশে, কবিগান কীর্তন ,আদিবাসী নৃত্য সহ বিভিন্ন লোক আঙ্গিক পরম্পরার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীদের (Folk artists) বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবর্তনের সরকার লোকপ্রসার প্রকল্পের মধ্য দিয়ে বাংলার লোকশিল্পীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছিলেন । মাসিক ১ হাজার টাকা করে ভাতা তারা যেমন পেতেন তেমনি বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে সুযোগ মিলত অনুষ্ঠান করার l ফলে সেটাও ছিল রোজগারের একটা বড় সুযোগ ।

কিন্তু করোনা আবহে সবকিছুই বন্ধ। বন্ধ সব রকমের অনুষ্ঠান । তাই নিজেদের সংসার প্রতিপালনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দুর্গাপুজোর আগে অনুষ্ঠানের আবেদন জানাচ্ছেন বীরভূমের বাউলশিল্পী মহাদেব দাস বাউল, সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের তপন দাস বাউল , ইলামবাজারের প্রদ্যুৎ বালা বাউল , সাঁইথিয়ার সুচিন্তিত ব্যানার্জি ,রঞ্জন দাস বাউল সহ ভাদু শিল্পী অসীম কুমার মন্ডল ,কবিয়াল রণজিৎ সাহারা।

বীরভূমের সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের সাজিনা গ্রামে বাউল বাগানে জেলার লোক ও প্রসার শিল্পীদের নিয়ে শুক্রবার এক বৈঠক হয় l সেই বৈঠক থেকেই লোকশিল্পীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে এই আবেদন জানান পাশাপাশি সংগঠনের মাধ্যমে সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন কীর্তনীয়া বাপ্পাদিত্য মুখার্জী ,গোসাই দাস বাউল ,ব্রহ্মানন্দ সাও এর মত সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষজন ।

বাউল ক্ষেত্রানুসন্ধানী মৃণালজিৎ গোস্বামী জানান, বাংলার সংস্কৃতির প্রসারে করোনা পরবর্তীতে বাউল সহ লোকপ্রসার শিল্পীদের একজোট হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এর জন্য তাদের নিজেদের কিছু সংশোধনের প্রয়োজন আছে। যেমন, লোক শিল্পীরা যেভাবে সচেতন করার কাজে নিযুক্ত থাকেন সেইভাবে তাদের নিজেদেরও সচেতন হতে হবে বলে জানান তিনি ।

পাশাপাশি সারাবাংলা লোক প্রসার শিল্পী কল্যাণ সমিতির বীরভূম জেলার সভাপতি তথা বাউল শিল্পী অঞ্জন চক্রবর্তী জানান, লোক শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পুজো কমিটির কাছে তারা আবেদন করবেন। পাশাপাশি পুজোর আগে শিল্পীদের এবং উদ্যোক্তাদের যাতে কোন অসুবিধা না হয় অনুষ্ঠান করতে তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তিনি আবেদনও জানিয়েছেন বলে জানান l

প্রবীণ বাউল শিল্পী তথা বিশেষজ্ঞ নিতাই চন্দ্র দাস বাউল এবং কার্তিক দাস বাউল সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা কথা তুলে ধরে জেলার সমস্ত শিল্পীদের কাছে আবেদন করেছেন প্রত্যেকে যেন একে ওপরের পাশে থাকেন l শুধু তাই নয় শিল্পীরা আশাবাদী , মুখ্যমন্ত্রী আগে যেভাবে শিল্পীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবছর পুজোর আগেও শিল্পীদের অনুষ্ঠানের সুযোগ দিয়ে তিনি শিল্পীদের পরিবারের পাশে দাঁড়াবেন l এখন অপেক্ষা কবে বেজে উঠবে হাতের একতারাটা , মাতাল সুরে মন মাতাবেন শিল্পীরা (folk artists)।

এই মুহূর্তে

x