15.4 C
Durgapur
Friday, January 22, 2021

বিপদে পড়লেই উদ্ধার করেন মা , ভবানীপুরের দাস বাড়ির দুর্গাপুজোর অজানা কাহিনী

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: মা আসছেন , হাতে গোনা আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের (Bhowanipore)দাস বাড়িতেও তাই পুজোর তোড়জোড়। এই পরিবারে পুজোর শুরু সেই ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ থেকে । যার পিছনে রয়েছে এক কাহিনী।

দাস পরিবারের পূর্ব পুরুষ ঋষিকেশ দাসের হাত ধরে পুজোর সূচনা। পরিবারের সদস্যরা জানান ঋষিকেশ দাসের জৈষ্ঠ্য পুত্র সত্যচরণ দাস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন, তাঁর বয়স তখন ১৬ বছর। ঋষিকেশবাবু সন্তানের সুস্থতার জন্য হাওয়া বদলে যান রামপুরহাটে। সেখানে কিছুদিন থাকার পর সত্যচরণ কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলে ঋষিকেশবাবু তাকে নিয়ে ভবানীপুরের (Bhowanipore) বাড়িতে ফিরে আসেন। কিন্তু, তার কিছুদিন পরেই আকস্মিক মৃত্যু হয় সত্যচরণের। সালটা ছিল ১৩৪৪ বঙ্গাব্দ। সন্তানের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন ঋষিকেশ দাস ।

একদিন ঋষিকেশবাবু স্বপ্ন দেখেন যে বাড়ির ঠাকুরঘরে একচালার দুর্গা প্রতিমা রয়েছে , সপরিবারে আসা মা তাঁর কাছে পুজো চাইছেন । এরপরেই ১৩৪৫ বঙ্গাব্দ থেকে দাস পরিবারে দুর্গাপুজোর শুরু , বংশ পরম্পরায় যা এখনো সমান বিশ্বাস ও ভক্তির সঙ্গে হয়ে আসছে। ভবানীপুর (Bhowanipore) দাস বাড়ির সদস্যরা যে যেখানেই থাকুক না কেনো পুজোর কদিন ভবানীপুরের বাড়িতে ফায়ার আসেন সকলে। পুজোয় অংশ নেন তারা।এখানকার পুজো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে হয় এবং বলি দেওয়া হয় মাসকলাই ও কলা।

পরিবারের অন্যতম প্রবীণ সদস্যা শ্রীমতি অনিতা দাস জানান, এই পুজোর আরো এক বিশেষত্বের কথা। স্বর্গীয় ঋষিকেশ দাস যে প্রাচীণ আচারের প্রবর্তন করেছিলেন সেই একই আচার আজ অবধি পালিত হয়ে আসছে এখানকার পুজোয়।

যেমন সপ্তমীর সকালে নবপত্রিকা স্নানের সাথে সাথে বাড়ির প্রত্যেক সদস্যরাও গঙ্গাস্নান করেন। সন্ধি পুজোর সময় বাড়ির মহিলারা ধূনো পোড়ান। এই প্রথায় বাড়ির মহিলারা তাদের দুহাতে এবং মাথায় মাটির সরাতে ধূনো জ্বালিয়ে মা-এর আরাধনা করেন। নবীন থেকে প্রবীণ , পরিবারের সকল মহিলা সদস্য এই উপাচারে অংশ নেন।

মায়ের আরো এক মাহাত্ম্যের কথা জানালেন অনিত্য দেবী। তিনি বলেন, একসময় তাঁর দেওয়রের ছেলে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ডাক্তার হাল ছেড়ে দেয় , সেই সময় অসুস্থ ছেলেকে মা দুর্গার বেদির সামনে শুইয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যের প্রাণরক্ষার জন্য মায়ের কাছে প্রার্থনা করেন পরিবারের সদস্যরা। দিন কয়েক পরেই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যায় সে, এইভাবেই পুজোর সাথে সাথে মায়ের মাহাত্ম্যও লোকমুখে প্রচারিত হয়ে আসছে।
এরকমই অনেক ছোট-বড়ো ঘটনার সাক্ষী ভবানীপুরের (Bhowanipore) দাসবাড়ির দুর্গাপুজো। নতুন প্রজন্মর হাত ধরে আগামী দিনেও পুজোর মহিমা অক্ষুন্ন থাকুক , চান পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা।

এই মুহূর্তে

x

php shell shell indir hacklink ko cuce