29.5 C
Durgapur
Sunday, January 24, 2021

বহু ইতিহাসের সাক্ষী, রাজ আমলের খেঁদা পার্বতীর মাহাত্ম্য আজও অমলিন

শুভময় পাত্র, বীরভূম: এ এক অন্য পুজোর গল্প । যেখানে নেই কোনো আড়ম্বর-জৌলুস, ঐতিহ্য আর নিষ্ঠা এই পুজোর রসদ। নিতান্তই সাদামাটা ঢং-এ দূর্গাপুজো হয় বীরভূমের প্রত্যন্ত এই গ্রামে। চারিদিকে গাছগাছালির সবুজ ,তারই মাঝে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গুটি কয়েক মন্দির। এসবের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে সুউচ্চ দেউল।

গ্রামের নাম দেউলী , বোলপুর শহর থেকে বেশ কিছুটা পথ যাওয়ার পর রায়পুর গ্রামের পাশে অজয় নদের ধারে অবস্থিত এই জনপদ। আজও গ্রামের আনাচে কানাচে কান পাতলে শোনা যায় অজানা নানা ইতিহাসের গল্প। এই গ্রামেই সেন রাজার (Sena dynasty) আমল থেকে পূজিত হয়ে আসছেন খেঁদা পার্বতী। রাজা লক্ষ্মণ সেনের আমলে প্রতিষ্ঠিত হয় এই দেবী ।

বাংলায় পাল রাজাদের রাজত্বকালের পরপরই সেন বংশের রাজত্ব (Sena dynasty) শুরু হয় । বল্লাল সেনের পর লক্ষ্মণ সেন । বংশ পরম্পরায় তারা যেমন বাংলার শাসনভার গ্রহণ করেছেন তেমনই দেব-দেবীদের প্রতি তাঁদের ভক্তি যে কোনো অংশে কম ছিল না তা তখনকার তৈরি দেবদেবীর মূর্তি দেখলেই অনুমান করা যায়। পরবর্তী সময়ে ঐতিহাসিকরা সেন যুগের (Sena dynasty) বিভিন্ন দেবদেবীর ভগ্নপ্রায় মূর্তি আবিষ্কার করেছেন। তাদের মধ্যে বীরভূমেও পাওয়া যায় তেমনি বহু প্রাচীন নিদর্শন।

কথিত আছে , লক্ষ্মণ সেনের (Sena dynasty) আমলে যে সমস্ত দেবদেবীর মূর্তি তৈরি হয়েছিল দস্যু কালাপাহাড়ের অত্যাচারে তাদের প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু খুঁত হয়ে যায় । দেউলী গ্রামের দেবী দুর্গার মূর্তিতেও তেমন বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায় । দেবী দুর্গার দশ হাতের বদলে এখানে দেবী অষ্টভুজা। কষ্টি পাথরের দেবী মূর্তির নাক ভাঙ্গা অবস্থায় পাওয়া যায়, তাই প্রাচীনকাল থেকে এই মূর্তি খেঁদা পার্বতী নামে পূজিত ।

দেউলী গ্রামের বাসিন্দা চণ্ডীচরণ অধিকারী, তারপর তার ছেলে সুধাংশু অধিকারী ও বর্তমানে গোপাল অধিকারীর বংশ পরম্পরায় এই পুজো করে আসছেন। পুজোর আরো এক বৈশিষ্ট আছে, বাংলার অন্য প্রান্তে যখন চারদিন ধরে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠে মানুষ তখন এখানে খেঁদা পার্বতীর পুজো হয় দু দিন। মহাঅষ্টমী ও মহানবমী , দুদিন নিয়ম নীতি মেনে সম্পন্ন হয় পুজো। জাঁকজমক বা ঘটা করে পুজোর আয়োজন না হলেও কোভিড পরিস্থিতির কারনে কিছুটা সচেতনতা তো মানতে হবেই ,জানালেন গোপালবাবু।

শহুরে কোলাহল ছেড়ে বেরিয়ে অনেকেই পুজোর সময় গ্রামের পুজোর স্বাদ নিতে এখানে ঝটিকা সফরে আসেন। তাই সুরক্ষার খাতিরে বর্তমান মহামারী পরিস্থিতিতে সরকারি বিধি নিষেধের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হবে খেঁদা পার্বতীর পুজো।

এই মুহূর্তে

x

php shell shell indir hacklink ko cuce