20 C
Durgapur
Sunday, January 24, 2021

এখানকার পুজোর বিসর্জন অনন্য , মা চণ্ডীকে লণ্ঠন জ্বেলে বিদায় জানান মুসলিমরা

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: রাম-রহিমের যুদ্ধে যখন গোটা দেশ সরগরম, তখন মালদার চাঁচোল (Chanchal) রাজবাড়ির পুজো যেন সাক্ষাৎ সাম্প্রদায়িকতার নজির। ঘরের মেয়ে উমাকে লন্ঠন হাতে কৈলাসের রাস্তা দেখান মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। আদি যুগ থেকে চলে আসছে এই প্রথা, যা বর্তমানেও প্রচলিত। তবে এর পিছনেও এক জনশ্রুতি আছে, সেকথা পরে জানাচ্ছি।

প্রথমেই জানা যাক রাজবাড়ির কথা, প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে চাঁচলের (Chanchal) পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় দেড় বিঘা জমির উপর এই রাজবাড়ি তৈরী করেন রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরী। সেই সময়ে প্রায় ৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরী হয়েছিল এই রাজবাড়ি। এখন না আছে রাজা , না আছে রানী। নেই রাজ পরিবারের কোনো সদস্যও। রাজপাটও কবে ঘুচে গেছে। এই রাজবাড়ির এক অংশে এখন আদালত, এক অংশে কলেজ , প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে।

রাজবাড়ি বদলে গেলেও রাজমন্দির রয়ে গিয়েছে আগের মতোই , রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব রয়েছে চাঁচল যার ট্রাস্ট এস্টেট পরিচালন কমিটির হাতে। এই ট্রাস্টি বোর্ড ও এলাকার কিছু মানুষের সহযোগিতায় আজও মা দুর্গার আরাধনা হয় এই রাজবাড়িতে। দেবী এখানে পূজিত হন মা চণ্ডী রূপে। এবছর পুজোর তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে ঠিকই , কিন্তু করোনার কারনে আয়োজনে কাটছাঁট করা হয়েছে

চাঁচোল (Chanchal) রাজবাড়ির পুজো কিন্তু রাজমন্দিরে হয় না। এই পুজো হয় রাজবাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এক ছোট্ট গ্রাম পাহাড়পুরে। এই গ্রামের চণ্ডী মন্ডপটি ছিল রাজপরিবারের মন্দির।

কথিত আছে রাজা শরৎচন্দ্র রায় চৌধুরীর বাবা রাজা রামচন্দ্র রায় চৌধুরী স্বপ্নাদেশ পান পাহাড়পুরের মহানন্দা নদী ঘাটে দেবী সতী পড়ে রয়েছেন ৷ সেই স্বপ্নাদেশ পেয়ে তিনি সেই ঘাট থেকে মা চন্ডির বিগ্রহ উদ্ধার করে রাজ্ ঠাকুরবাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু, দেবীর নির্দেশ ছিল, তিনি যেখান থেকে উঠে এসেছেন সেখানেই পুজো নেবেন, সেই মতো পুজোর সময়ে পাহাড়পুরে নিয়ে যাওয়া হয় দেবীকে। সেখানে ছোট একটি মন্দিরও বানানো হয় ।

বিগত দিনে বলির চল থাকলেও আজ সেই প্রথা নেই । তবে রাজ পরিবারের নিয়ম মেনে দেবীর আরাধনা করা হয় আজও। চাঁচলের বাসিন্দারাই আজ এই পুজোর আয়োজন করেন। পায়েস লুচি সহ একাধিক পদ তৈরি করে চলে পুজোর চারদিন দেবীর অন্নভোগ। সপ্তমির দিন রীতিমতো শোভাযাত্রা করে মা চণ্ডীকে নিয়ে যাওয়া হয় পাহাড়পুরের পুজো স্থলে। কষ্ঠীপাথরের মূর্তির পাশাপাশি প্রতিমাও তৈরি হয়। আয়োজন যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন। রাজার পুজো বলে কথা কথা , নতুন প্রজন্ম কিন্তু কোমর বেঁধে এগিয়ে আসে এই পুজোকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।

বিসর্জনের সময়ে মাকে বিদায় জানান এলাকার মুসলিমরাও। শোনা যায়, মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামে একবার পুজোর সময়ে কলেরা হয়েছিল। রাজবাড়ীর প্রতিমাকে গ্রামের ভিতর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় অন্ধকারে গ্রামের মুসলিমরা লন্ঠন জ্বেলে পথ দেখিয়েছিলেন। তারপরই নাকি গ্রামে সকলে সুস্থ হয়ে যায়। সেই প্রাচীন রীতি চলে আসছে এখনো।

দশমীর দিন গোধূমি বেলায় মহানন্দার ঘাটে চণ্ডী প্রতিমাকে বিসর্জনের সময়ে নদীর অপর পাড়ে দাঁড়িয়ে লন্ঠন হাতে আলো দেখান মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। বিদায় জানান মাকে। মৃন্ময়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর কোষ্ঠী পাথরের মূর্তিকে ফের নিয়ে আসা হয় রাজমন্দিরে।

এই মুহূর্তে

x

php shell shell indir hacklink ko cuce