33 C
Durgapur
Saturday, April 17, 2021

বিশ্বভারতীর প্রাচীর ‘বিতর্ক’-এ রাজনীতির রং

শুভময় পাত্র , জেলার খবর: বিশ্বভারতীর (Visva-Bharati) প্রাচীর বির্তক নিয়ে এবার শুরু হল রাজনীতি।বিগত বেশ কিছু দিন ধরেই শান্তিনিকেতন তথা বিশ্বভারতীর মেলার মাঠ ঘিরে ফেলা নিয়ে রীতিমতো খন্ডযুদ্ধ শুরু হয়েছে বিশ্বভারতী (Visva-Bharati) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বোলপুরবাসী তথা শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক ও ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে । কেউই মেনে নিতে পারছেন না যে তাদের সাধের শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠকে ইট-কাঠ-পাথরের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে যাবে । সে শান্তিনিকেতনের প্রবীণ আশ্রমিক হোক বা বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র সহ বোলপুরের আপামর শান্তিনিকেতন প্রেমী মানুষ । তাদের একটাই আবেদন বিশ্বভারতী (Visva-Bharati) কর্তৃপক্ষ কোনভাবেই যেন তাদের এই আবেগ ও স্মৃতিবিজড়িত শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলার মাঠকে ঘিরে না ফেলে ।

সেইমতো ১৫ আগস্ট থেকে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিভিন্নভাবে লড়াই করে চলেছেন বোলপুরবাসী । এর মধ্যে অনেক বাকবিতণ্ডা ও আলোচনা হলেও বিশ্বভারতী (Visva-Bharati) কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তে অনড় । এদিকে এই ঘটনার খবর যখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছায় তখন তিনি পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দেন শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য পৌষ মেলার মাঠকে কোনভাবেই কংক্রিটের বন্ধনে আবদ্ধ হতে দেবেন না সে যেকোনো পরিস্থিতিতেই হোক।

সমস্যা নিয়ে আলোচনায় জেলাশাসককে বিশ্বভারতীর উপাচার্যকে নিয়ে এক বৈঠকে বসার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী , কিন্তু সেই বৈঠকে জেলা পুলিশ সুপার , জেলা প্রশাসক , বোলপুরের সাংসদ সহ প্রবীণ আশ্রমিক , বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতি ও বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত থাকলেও বৈঠকে যোগ দেয়নি বিশ্বভারতীর কোন আধিকারিক । তাই এর থেকে নিশ্চিত যে বিশ্বভারতী (Visva-Bharati) তাদের সিদ্ধান্তে অনড় ।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যেহেতু রাজ্য পুলিশের কোনো সাহায্য পাচ্ছেন না সেই ক্ষেত্রে ED -র সাহায্যের উপরেই ভরসা করতে হচ্ছে বিশ্বভারতী (Visva-Bharati) কর্তৃপক্ষকে। বিশ্বভারতীর উপাচার্যের নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্বে থাকা রাজ্য পুলিশের কর্মীদের ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বিশ্বভারতী থেকে। একদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কঠোর ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য ও বোলপুরবাসীর আবেগ জড়িত পৌষ মেলার মাঠ কোনভাবেই কংক্রিটে আবদ্ধ করতে পারবে না বিশ্বভারতী তাতে যে কোন পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার তা রাজ্য সরকার নেবে ।

দুদিন আগে এই ইস্যুতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মন্ডল । ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করে তিনি অভিযোগ করেন , বিশ্বভারতীর উপাচার্য বিজেপির পরিচালনা মতো কাজ করছেন। এবার বিশ্বভারতীর (Visva-Bharati) প্রাচীর ‘বিতর্ক’ নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ । এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, বীরভূম জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস বিশ্বভারতীকে কলুষিত করছে । অর্থাৎ, এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে বিষয়টি আর বিশ্বভারতীর উপাচার্য আর জেলাশাসকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই । ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াইয়ে নেমেছে তৃণমূল ও বিজেপি । এই পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেল।

এই মুহূর্তে

x