27.8 C
Durgapur
Thursday, October 22, 2020
Maa

এবার করোনার কোপ ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী খার্চি পুজোয়

বিশ্বজিৎ দে, ত্রিপুরা, জেলার খবর : শনিবার থেকে শুরু হল ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী খার্চি পুজো (Kharchi puja)। কিন্তু করোনা কালে ত্রিপুরার এই ঐতিহ্যবাহী পুজোতেও (Kharchi puja) কোপ পড়েছে রীতিমতন। অন্যান্য বছর এই খার্চি পুজোকে (Kharchi puja) ঘিরে একপ্রকার উৎসবের মেজাজে ভাসে গোটা ত্রিপুরা। কিন্তু করোনার করাল থাবা এবার রীতিমতো প্রভাব ফেলেছে এই পুজোতে (Kharchi puja)। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই পুজোকে ঘিরে অন্যান্যবার নানা রকমের আয়োজন থাকলেও এবার সেই জাঁক-জমক দেখা যায়নি। রাজার আমল থেকে চলে আসা চোদ্দ দেবতার এই পুজোয় রীতিমতন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই ভক্তরা সামিল হন পুজোতে।

এবার এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই খার্চি পুজো (Kharchi puja) আসলে কি ?

খার্চি পূজা বা খার্চি মেলা ও উৎসব হল চৌদ্দ দেবতার পূজা। প্রাথমিক ভাবে এটা ত্রিপুরীদের উৎসব হলেও বর্তমানে সব ধর্মের মানুষ এতে সমান ভাবে অংশগ্রহণ করে। এটি সাধারণত ইংরেজি মাসের জুলাই-অগাষ্ট এর দিকে হয়ে থাকে। খার্চি পুজোর ইতিহাস সম্বন্ধে জানতে হলে আমাদের যেতে হবে ৩০০০ বছর আগে। খার্চি শব্দের আক্ষরিক অর্থ হল, খার ও চি। খার কথার অর্থ হল পাপ এবং চি কথার অর্থ হল পরিষ্কার বা মোচন করা। এক কথায় পাপ মোচন করা।এই পূজা মুলত ত্রিপুরার রাজ পরিবার এবং ত্রিপুরী রাজ চন্তাই দের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে আসছে। চন্তাই কথার অর্থ হচ্ছে পূজারী বা পুরোহিত।রাজ চন্তাইরা বংশ পরম্পরায় নির্বাচিত হয়ে আসে।

[আরও পড়ুন: সাধারণ জনজীবনের পর এবার করোনার কোপ পূজা-অর্চনাতেও]

চৌদ্দ দেবতা মন্দিরের অষ্ট ধাতুর নির্মিত এই দেবদেবীরা হলেন হর (শঙ্কর), উমা (শঙ্করী), হরি (বিষ্ণু), মা (লক্ষ্মী), বাণী (সরস্বতী), কুমার (কার্ত্তিকেয়), গণপা (গণেশ), বিধি (ব্রহ্মা), ক্ষ্বা (পৃথিবী), অব্ধি (সমুদ্র), ভাগীরথী (গঙ্গা), শিখি (অগ্নি), কামদেব (প্রদ্যুম্ন) ও হিমাদ্রি (হিমালয় পর্ব্বত)। হর, উমা, হরি, এই তিন দেবদেবী নিত্য পূজিত হন। কিন্তু আষাঢ় মাসের শুক্লাষ্টমীতে একত্রে পূজিত হন চৌদ্দ দেবতা। ৭দিন ব্যাপী চলে এই পূজা ও জাতি উপজাতির এই মহান মিলন মেলা।

অন্যান্য বছরগুলিতে এই পুজো বা মেলা দেখতে বহু দর্শনার্থীর সমাগম হলেও এবছর করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে বেশ কিছু বিধি-নিষেধ প্রয়োগ করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে এই পুজোর আসল আকর্ষণ খার্চি মেলাও। উল্লেখ্য, এই উৎসব দেখার জন্য শুধুমাত্র ত্রিপুরা থেকেই নয়,দেশ-বিদেশ থেকেও বহু দর্শনার্থীরা ভিড় করতেন।

করোনার করাল থাবায় এবছর যেন এই সমস্ত কিছুই একপ্রকার সবার কাছেই স্মৃতি। খার্চি পুজোর দিন ও মন্দির প্রাঙ্গন ছিল একপ্রকার জন-মানব শূন্য। দেখা মিলেছে পরিচালন কমিটির লোকেদের মাত্র। যদিও দেবতা দর্শনের জন্য কিছু মানুষকে রাস্তার দু-ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এই মুহূর্তে

পুজোর আগে অভাবী পরিবারের পাশে দাঁড়ালো ‘আলো’

শুভময় পাত্র, বীরভূম: প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস, এটাই 'আলো'র (Alo) বিশ্বাস। আর্থিক সামর্থ্য নেই বললেই চলে, না আছে কোন সরকারি অনুদান ।...

ব্যবহৃত পিপিই কিট পোঁতার প্রতিবাদে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ ওন্দা হাসপাতালের করোনা রোগী ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহৃত পিপিই কিট পোঁতার প্রতিবাদে (Protest) বিক্ষোভে সামিল হলেন বাঁকুড়ার কারকডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দারা।...

পঞ্চমীতে উদ্বোধন হল সোনামুখীর বড়সাঁকো সর্বজনীন দুর্গাপুজোর

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ সোনামুখী পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়সাঁকো সর্বজনীন দুর্গোৎসব (Durgapuja) এবছর অষ্টম বছরে পদার্পণ করল । আজ মহাপঞ্চমীতে ফিতে কেটে...

জৌলুস হারালেও ঐতিহ্যে আজও অটল সারেঙ্গার পাল জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ বদলেছে সময়, বদলেছে পরিস্থিতি। এখন আর ঝাড়বাতি জ্বলে না দালানে, বসে না জলসার আসর। জমিদারী চলে যাওয়ার সাথে সাথে...

পুজোর মরসুমে করোনাকে ভুলে মাস্ক ছাড়াই চলছে স্যালোঁর কাজ

শুভময় পাত্র , বীরভূম: রাত পোহালেই মহাষষ্ঠী। করোনা আবহে নির্দেশ যতই করা হোক না কেন বছর ভরের অপেক্ষা শেষে মা আসছেন ঘরে...

বোধনের আগেই বিসর্জন ! ৩ কন্যাকে দামোদরে ছুঁড়ে ফেলল বাবা

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: মৃন্ময়ী মায়ের আরাধনায় মেতেছে দেশ , চারিদিকে সাজ সাজ রব। অথচ রক্তমাংসের সেই মায়ের রূপ ঘরে জন্মালেই হয়ে...

‘নিউ নর্মাল’-এ মা দুর্গার মুখেও এবার মাস্ক !

নিজস্ব প্রতিনিধি , বীরভূম: করোনা আবহে পুজো , তাই সতর্কতাই একমাত্র লক্ষ্য। সেই ভাবনাকে সঙ্গে নিয়ে এবছর দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছে সাঁইথিয়া (Sainthia)...

পঞ্চমী তিথি থেকেই পুজো শুরু সিউড়ির বসাক পরিবারে

নিজস্ব সংবাদদাতা ,বীরভূম: ষষ্ঠীতে বোধনের মধ্যে দিয়ে দুর্গাপূজার (Durgapuja) সূচনা হলেও সিউড়ির মালিপাড়ার বসাক পরিবারে মা উমার আরাধনা শুরু হয়ে যায় পঞ্চমী...
Maa Aschhe01
x