28.4 C
Durgapur
Sunday, August 1, 2021

যাবেন নাকি ভুতুড়ে জমিদার বাড়িতে দুগ্গাঠাকুর দেখতে ? রইলো বিস্তারিত এখানে

স্টাফ রিপোর্টার, জেলার খবর, বর্ধমান : পুজো (durga puja) মানে দেদার মজা, ঠাকুর দেখা আর পেটপুজো। এগুলো ছাড়া কি আর দুর্গাপুজো (durga puja) মানায় ! পুজোর (durga puja) কটা দিন যেন একেবারে বাধন ছাড়া, ছন্নছাড়া জীবন কাটাতে ইচ্ছে করে সবারই। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে বাঙালি একেবারে উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে এই ক’দিন। আর ভ্রমণ পাগল বাঙালি এই সময় মনের সুখে ঘুরে বেড়ায় এদিক-ওদিক।

বাঙালি মানেই একটু রহস্য রোমাঞ্চ প্রিয়। সে ফেলুদাই হোক বা জটায়ু কিংবা আম বাঙালি। রহস্য রোমাঞ্চ আমাদের টেনেছে বরাবরই। আজ আপনাদের এই প্রতিবেদনের মাদ্ধমে জানাব একেবারে রহস্য রোমাঞ্চে ভরা এক জমিদার বাড়ির গল্প। পুজোয় (durga puja) ভূত দেখলে কেমন হয়? পুজো (durga puja) মানে তো গল্পের বই। পড়ার বইয়ে লুকিয়ে অশরীরীদের হাতছানি। ঠা ঠা রোদের দুপুরে যখন একা ঘর, তখন ঘাড়ে যেন কার ঠান্ডা নিঃশ্বাস.. আর রাত হলে সেসব মনে করে ভয়ে কাঁটা….ওফ কি মনে হচ্ছে ?একেবারে জমে ক্ষীর না !

কিন্তু বর্তমানের ব্যস্ততার দৌড়ে ভূতেরাও কোথাও গায়েব। কেউ যেন তাদেরকে আর পাত্তাই দেয়না ! কিন্তু সত্যি করেই যদি আপনাদেরকে ভাঙা অট্টালিকার ঝোপ জঙ্গলে গা ছমছমে অনুভূতি পাওয়ার ঠিকানা জানাই ! কেমন, যাবেন তো সেখানে ? এই রহস্য রোমাঞ্চে ভরা একেবারে তেনাদের দর্শনে আপনাদের যেতে হবে তাহলে পূর্ব বর্দ্ধমান জেলার সদর বর্দ্ধমানে। সদরঘাট ছাড়ালেই পড়বে পলেমপুর। বাঁ দিকে দামোদরের তীর ঘেঁসে মেঠো রাস্তা। সেই রাস্তায় মোটামুটি তিন কিলোমিটার পেরিয়ে বসুদের জমিদার বাড়ি। কিন্তু এখানকার লোকে বলে ভূতের বাড়ি, ভূতবাংলো। কারা নাকি ঘুঙুর পরে হেঁটে বেড়ায়। তখন নাকি বাজনা বেজে ওঠে। রাতে যাওয়া তো দূরের কথা, দিনের বেলাতেও এই বাড়ির কাছে ঘেঁসেন না কেউ। বর্ধমানে দামোদরের তীরে ভূতের গল্প নিয়ে একা দাঁড়িয়ে থাকে ভগ্নপ্রায় জমিদারবাড়ি। পুজোর সময় অবশ্য এই অট্টালিকার চেহারাটা পালটায়। তখন যে স্বয়ং মা উমা আসেন এখানে। যাবেন নাকি পুজোর সময় একেবারে স্বয়ং ভুতবাংলোর দুগ্গা ঠাকুর দেখতে ?

আগাছায় ভরা চারপাশ। ভেতরে চাপ চাপ অন্ধকার। একটানা ঝিঁ ঝিঁর ডাক। রাতে তো দূরে থাক, দিনেও কেউ ঘেঁসেন না এই অট্টালিকার পাশে। ভুতুড়ে বাড়িটাতে কিন্তু পুজো আসে। ইংরেজ শাসনের শুরুতে এলাকার দেওয়ান নিযুক্ত হন এই পরিবারের সদস্য দেবনারায়ণ বসু। সেই সূত্র ধরেই গড়ে উঠল বিশাল এই অট্টালিকা। তার বাইরের অংশে তৈরি হয় দুর্গা দালান। শুরু হয় দুর্গাপুজো। আর এই জমিদার বাড়িতেই ছিল নাচঘর। নতর্কীরা মজলিস জমাতেন এই নাচঘরে। সাহেবরাও আসতেন এই মজলিসে। যাত্রা, পালাগানের আসর বসত তখন।

কালের চক্রে এখন এ সবই অতীত। বর্তমানে এই অট্টালিকার দরজা জানালা সবই একপ্রকার খসে গিয়েছে। কড়ি বরগা উধাও।বুনো লতা আঁকড়ে ধরেছে দেওয়ালকে। কে জানে, হয়ত সেই নতর্কীরা আজও তাদের সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেননি। তাই ঝপ করে অন্ধকার নামলেই তাঁরা ফিরে যান সেই সময়ের সন্ধেগুলোতে। হয়ত, পুজোর সময়ও থাকে তেনাদের উপস্থিতি। শুধু পুজোর এই কতদিনের ঝলমলে রোশনাইতে দেখা যায় না তাদের.. অতীত আর বর্তমান হাতে হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে এই ভূতবাংলোয়।

বর্তমানে বসু পরিবারের বংশধরেরা কেউ থাকেন কলকাতা, কেউ মুম্বই, কেউ থাকেন বিদেশে। তবে পুজো এলে সারাবছরের আঁধার ঘোচে এই ভুতুড়ে জমিদার বাড়িতে। জেনারেটরের আলোয় ভূতুড়ে বাড়িটা একেবারে গমগম করে। আর তেনারা থাকেন অপেক্ষায় ।

এই মুহূর্তে

x