25.4 C
Durgapur
Friday, April 16, 2021

প্রথা মেনে মল্লভূমে শুরু হয়ে গেল শারদোৎসবের

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ মল্ল রাজ পরিবারের পুজোর (Durga Puja) আড়ম্বরই আলাদা । কারন এই রাজপরিবারে মা মৃন্ময়ীর আগমনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায় কৃষ্ণা নবমীর পূন্য তিথি থেকেই । পারিবারিক সেই প্রথা মেনে শুক্রবার পট পুজোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গেল মল্ল রাজপরিবারের পুজো (Durga Puja) ।

এই ‘পট পুজো’ই এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহরের শাঁখারি বাজারের ফৌজদার পরিবারের সদস্যরা ধারাবাহিকতা মেনে আজও প্রতি বছর বড় ঠাকুরাণী, মেজ ঠাকুরাণী ও ছোটো ঠাকুরাণীর আলাদা-আলাদা তিনটি পট আঁকেন । রাজ পরিবারের মন্দিরে মা মৃন্ময়ীর পাশেই নির্দিষ্ট জায়গায় এই তিনটি পট রেখে হয় পুজো।

কৃষ্ণা নবমীর পূণ্য সকালে রাজবাড়ি সংলগ্ন রঘুনাথ সায়ের এ বড়ঠাকুরাণীর পটের স্নান পর্ব শেষে তাঁকে মন্দিরে নিয়ে আসা হয় । এর পর প্রথানুযায়ী তিন বার কামানের তোপধ্বনি দেওয়া হয় । এরপরে বড় ঠাকুরানী গর্ভগৃহে প্রবেশের মুহূর্তেও দেওয়া হয় তোপধ্বনি । সবশেষে দেবীকে অন্নভোগ নিবেদনের সময় আরো তিনবার কামানের তোপধ্বনিতে ময়কৃত হয় বিষ্ণুপুর। বড় ঠাকুরাণীর পুজোর দিন থেকেই মল্ল রাজাদের প্রাচীণ এই রাজধানীতে শুরু হয়ে যায় শারদোৎসব

৯৯৭ খ্রীষ্টাব্দ, বাংলা ৪০৪ সাল, ৩০৩ মল্লাব্দে তৎকালীন রাজা জগৎ মল্ল স্বপ্নাদেশ পেয়ে বিষ্ণুপুরে দেবী মৃন্ময়ী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। তারপর থেকে মল্ল রাজাদের কূলদেবী হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন মা মৃন্ময়ী । অতিতে রাজাদের আমলে যে আড়ম্বর ছিল সময়ের সাথে সাথে তাতে কিছু ভাটা পড়লেও ঐতিহ্য-পরম্পরায় একচিলতেও হেরফের হয় নি।

এখনও পুজোর (Durga Puja) সন্ধিক্ষণে মস্ত কামানের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে আকাশ বাতাস । বিজয়া দশমীতে নীলকন্ঠ পাখি উড়িয়ে ও দইয়ের মধ্যে চ্যাং মাছ ছেড়ে পুজোর (Durga Puja) সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়

এই মুহূর্তে

x