30.2 C
Durgapur
Sunday, August 1, 2021

ভেঙে গিয়েছে বসতবাড়ি, স্থানীয় কমিউনিটি হলেই চলছে দিনযাপন

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ গত রবিবার মাথার উপর থাকা একমাত্র ছাউনি টুকু হারিয়েছেন প্রশান্ত চক্রবর্তী। তারপর থেকে স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে রাত কাটাচ্ছেন স্থানীয় এক কমিউনিটি হলে (Community Hall) । বিষ্ণুপুর পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাদাকুলি এলাকার ঘটনা ।

বছর ষাটের প্রশান্ত চক্রবর্তী তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে জীর্ণ মাটির বাড়িতে কোনরকমে বাস করছিলেন এতদিন। কিন্তু গত রবিবার হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে বসবাসের একমাত্র সেই বাড়ি। এমতাবস্থায় বাধ্য হয়ে স্থানীয় একটি কমিউনিটি হলে (Community Hall) রাত কাটাচ্ছেন তারা ।

একদিকে কেন্দ্র সরকার গরিব মানুষদের বাড়ি দিচ্ছেন অন্যদিকে রাজ্য সরকার গরিবদের বাড়ি দিচ্ছেন কিন্তু এখনো এইরকম জীর্ণ বাড়িতে বসবাস করেও কেন প্রশান্ত চক্রবর্তী সেই সুবিধা পেলেন না তাই নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরী হয়েছে ক্ষোভ। প্রশ্ন উঠছে স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও। অনেকেই আবার এর পিছনে রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন ।

প্রশান্তবাবুর ছেলে বছর ছাব্বিশের মিঠুন চক্রবর্তী পূজার্চনা করে কোনরকমে দিন চালান । প্যারালাইসিস হওয়ার পর থেকে প্রশান্তবাবুর সংসারের দায়িত্ব সবটুকুই তাঁর ছেলের কাঁধে। তাই অসহায় এই পরিবার এখন তাকিয়ে রয়েছে সরকারি সহযোগিতার দিকে । প্রশান্ত চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী জানান, দেওয়াল যখন খসে পড়ছে কোনরকমে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রাণে বেঁচে আছি । সরকারকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি ।

স্থানীয় বাসিন্দা নিভা চক্রবর্তী জানান, যাদের ছেলেরা এক লাখ টাকা দামের গাড়ি চালাচ্ছে তারা সরকারি ঘর পাচ্ছে অথচ ওনার আর্থিক অবস্থা খারাপ সত্ত্বেও ঘর পাচ্ছেন না ।

স্থানীয় কাউন্সিলর দিব্যেন্দু ব্যানার্জি জানিয়েছেন আপাতত ওই পরিবারকে কমিউনিটি হলে (Community Hall) থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে । বাড়ি তৈরির লিস্টে ওনাদের নাম রয়েছে, দ্রুত তাদের কিভাবে সরকারি বাড়ি দেওয়া যায় আমরা চেষ্টা করছি ।

বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপির জেলা সভাপতি হরকালী প্রতিহার এই ঘটনার জন্য তৃণমূল সরকারকে দায়ী করেছেন । তিনি বলেন , তৃণমূল নেতাদের নামে , বউয়ের নামে বাড়ি হচ্ছে । অথচ প্রকৃত পক্ষে যাদের বাড়ির প্রয়োজন , যাদের বাড়ির ছাউনি দিয়ে জল পড়ছে তারা বাড়ী পাচ্ছেন না ।

এই মুহূর্তে

x