28 C
Durgapur
Friday, May 7, 2021

জৌলুস বাড়লেও ঐতিহ্যে অবিচল, সাবেক রীতিতে পূজিত হন শ্যামারূপা

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: পেরিয়ে গিয়েছে ১২০০ বছর। পাল্টেছে পুজোর আবহ। জৌলুস বেড়েছে বই কমেনি। প্রদীপের আবছা আলোর বদলে দেবীর আরাধনা হয় এখন বিজলি বাতির ঝলমলে আলোয়। পোড়ামাটির ইঁট বসানো এবড়ো খেবড়ো মেঝের বদলে মন্দির প্রাঙ্গণ এখন মার্বেলে মোড়া। মন্দিরের সংকীর্ণ গর্ভগৃহে বাতানুকুল ঠাণ্ডা হাওয়া।

পারিপার্শ্বিক বদল হলেও পশ্চিমবঙ্গ-ঝাড়খণ্ড সীমানায় অবস্থিত কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে (Kalyaneshwari Temple) এখনও পুরনো রীতি মেনেই পুজো হয়ে আসছে, এমনটাই দাবি মন্দিরের প্রধান সেবাইতের। কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে (Kalyaneshwari Temple) কোনও মূর্তি পুজো হয় না। রয়েছে একটি বড় পাথর। তার তলায় আছে একটি অদৃশ্য গুহা। পাথরের এক কোনায় একটি গর্ত রয়েছে। মন্দিরে আসা ভক্তদের বিশ্বাস, ওই গর্ত স্পর্শ করলেই দেবীর আশীর্বাদ লাভ করবেন। পূর্ণ হবে মনস্কামনা। এই বিশ্বাসেই বিগত ১২০০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মন্দির প্রাঙ্গণে আসছেন ভক্তরা।

বছরের অন্য সময় সন্ধ্যা ৬ টায় বন্ধ হয়ে যায় মন্দিরের (Kalyaneshwari Temple) দরজা। কিন্তু কালীপুজোর সময় সারা রাত পুণ্যার্থীদের জন্য খোলা থাকে দরজা। দিলীপবাবু আরও জানান, গত ১২০০ বছর ধরে মন্দিরে পুজো আসে পুরুলিয়ার কাশিপুর রাজ পরিবার থেকে। মন্দিরের প্রাচীন তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, খ্রিস্টিয় দ্বাদশ শতাব্দীতে কাপালিক দেবদাস চট্টোপাধ্যায় কালী সাধনা করার জন্য এখানে এসেছিলেন।

সেই সময় ছিল ঘন জঙ্গল। শোনা যায়, রাজা বল্লাল সেন ছিলেন এই কাপালিকের ভক্ত। কাপালিকের নির্দেশ মেনে বল্লাল সেন অধুনা শ্রবনপুরে একটি মন্দির নির্মাণ করেন। সেখানেই বহু বছর আরাধনা হয় দেবী শ্যামারূপার।

জনশ্রুতি, একদিন কল্যাণেশ্বরীর কাছে প্রায় ফুট একটি গভীর গর্তে দেবী আশ্রয় নেন। তখন থেকেই দেবী ওই জায়গাতেই পূজিতা। এলাকাবাসীর বিশ্বাস, শ্রবনপুরের ওই মন্দিরের আশপাশে বসতি গড়ে উঠতে শুরু করে। কোলাহলে রুষ্ট হন দেবী। তাই নিরিবিলি জায়গা কল্যাণেশ্বরীতে উঠে আসেন তিনি। এখন কালীপুজোর দিন বিশেষ পুজো হয়। কার্তিকী অমাবস্যা তিথিতে নিষ্ঠা সহকারে দেবীর পুজো হয়।

এই মুহূর্তে

x