24 C
Durgapur
Tuesday, April 20, 2021

“আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই”, বিস্ফোরক মন্তব্য বহিষ্কৃত বিজেপি নেতার

স্টাফ রিপোর্টার, জেলার খবর, কাঁকসা : “বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই (Lakhan Ghorui) -এর ভাইপো সহদেব ঘোড়ুইয়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার জন্য আমাকে পার্টি থেকে বহিষ্কৃত হতে হয়েছে। এমনকি এখন প্রায়শই আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর এই কাজ লক্ষ্মণ ঘোড়ুই (Lakhan Ghorui)এর অঙ্গুলি হেলনেই হচ্ছে।” বিস্ফোরক এই মন্তব্য করেছেন বিজেপির বহিষ্কৃত নেতা কালু রাজ ঘোষ।

সম্প্রতি আমাদের সাথে ফোনে কথা বলার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। এছাড়াও তিনি সরাসরি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই (Lakhan Ghorui) এর প্রতি অভিযোগের আঙ্গুল তুলে বলেন, ” ও জানত যে আমি পার্টিতে থাকতে এই ধরণের ( ধর্ষণ ও তোলাবাজি ) কাজকে কখনোই সমর্থন করব না। তাই রীতিমতো ষড়যন্ত্র করে আমাকে পার্টি থেকে সরিয়ে দিল। যাতে পার্টির ক্ষমতার অপব্যবহার ও করতে পারে।”

উল্লেখ্য, গত মে মাসে বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই (Lakhan Ghorui) এর গুনধর ভাইপো তাঁর দলেরই এক কর্মীর নাবালিকা মেয়েকে ভিডিও দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। এরপর নির্যাতিতা নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে কাঁকসা থানা তদন্ত শুরু করে।কিন্তু এতদিন হয়ে গেলেও কাঁকসা থানার পুলিশ আজ অবদি অভিযুক্ত এই গুনধর ভাইপোর সন্ধান করতে পারেনি। আর এর পেছনেও রয়েছে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই (Lakhan Ghorui) এর হাত । এই ধর্ষণের বিরুদ্ধে পস্কো আইনে একটি মামলাও রুজু করা হয় আদালতে।কিন্তু অভিযুক্ত আজও অধরা।

বিজেপির পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এর ভাইপোর এই মহান কীর্তির পর দলেরই অন্দরে এই ঘটনার বিরোধিতা শুরু হয়। সেই সময়ে সব থেকে বেশি সরব হন কালু রাজ ঘোষ। তিনি নিজে গিয়ে দেখা করেন নির্যাতিতার পরিবারের সাথেও, বলে খবর। আর তারপরই আচমকাই এক অজানা কারণে দল তাকে বহিষ্কার করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে বহিষ্কৃত বিজেপি নেতার অভিযোগ, ” দল শুদ্ধিকরণের জন্য মুখ খুলেছিলাম, আর তার ফল স্বরূপ, আমাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হল।” তিনি আরও অভিযোগ করে জানান যে , বর্তমানে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এর নেতৃত্বে দলীয়কর্মীরা দিশেহারা। বহু একনিষ্ঠ দলীয় কর্মী, যারা বহু দিন ধরে বিজেপি করছেন, তারা এখন এই ধরণের নেতার নেতৃত্বের ফলে দলত্যাগেরও চিন্তা-ভাবনা করছেন ।

সম্প্রতি বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূলে যোগদান করেন নির্যাতিতার বাবা তথা, বিজেপির দুর্গাপুর পূর্ব ৪ নম্বর মন্ডল ( কাঁকসা মন্ডলের) ২৭৫ নম্বর বুথ সভাপতি। তিনি এই দলত্যাগের বিষয়ে সাফ জানান, গত পাঁচ মাস ধরে রাজ্য নেতৃত্ব,কেন্দ্র নেতৃত্ব ও সাংসদদের যোগাযোগের আশায় ছিলেন তিনি। কিন্তু কারোর কাছ থেকেই কোনরূপ সাহায্য না পাওয়ায়, তার মেয়ের প্রতি ঘটে যাওয়া অন্যায়ের সঠিক বিচারের আশায় এখন তিনি তৃণমূলে।

এদিকে পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এর বিরুদ্ধে দলের অন্দরেই ধরা পড়ছে নানান কোন্দল। সম্প্রতি নির্যাতিতার বাবার দলত্যাগের বিষয়ে এক বিজেপি কর্মীর প্রতিক্রিয়া, “এরকম এক অপদার্থ জেলা সভাপতির কু-কর্মের ফলভোগ করতে হচ্ছে গোটা দলটাকে।”

এই বক্তব্য ও বহিষ্কৃত বিজেপি নেতা কালু রাজের বক্তব্যেই পরিষ্কার যে কেবলমাত্র ভাইপো স্নেহে পাগল লক্ষ্মণ ঘোড়ুই এর কাছে দলের চেয়ে ভাইপোর গুরুত্ব বেশি। এখন প্রশ্ন, গুরুতর এই অভিযোগের দিকে কি আদেও নজর দেবে দল ? নাকি চোখ বন্ধ করেই থাকবে বিজেপির রাজ্য তথা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ? সামনেই ২০২১ এর বিধানসভার নির্বাচন। আর তার দামামা বেজে গেছে গোটা রাজ্য জুড়ে। আর এই সময়ে দলেরই অন্তঃকলহে একেরপর এক দলীয় কর্মীর দলত্যাগ ও তৃণমূলে যোগদান, তার প্রভাব কি পড়বেনা ২১শের ভোটবাক্সে ?

এই মুহূর্তে

x