30 C
Durgapur
Friday, April 16, 2021

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে অনন্য ভূমিকায় লকডাউন ‘স্পেশাল’ স্কুল

উদয় সিং, আসানসোল: করোনা অতিমারির জেরে বর্তমানে অসহায় হয়েছে সমাজ ব্যবস্থা, দিকে দিকে কল কারখানা বন্ধ, কাজ হারিয়েছে অসংখ্য খেটে খাওয়া মানুষ। তারই মধ্যে আরো বেশি করে অসহায় হয়ে পড়েছে দীন-দরিদ্র আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন । একটা বিশাল সংখ্যার মানুষ রয়েছে যারা দিনমজুরি করে তাদের সংসার চালান, সেই সকল পরিবারের সদস্যরা এই করোণা মহামারীর সময় বড্ড বেশি অসহায়। অনেকেই তাদের কাজ হারিয়েছেন। আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবারকে নিয়ে অসহায়ভাবে দিন কাটছে তাদের।

যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা , সেই সকল পরিবার নিজেদের পেটের ভাত জোটাবেন নাকি সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাবেন , তা নিয়ে এখন ভাবার সময় নেই তাদের । সেই কথা মাথায় রেখে সোমবার অসহায় পরিবারের খুদে পড়ুয়াদের পঠন-পাঠনের উদ্যোগ নিলেন জামুরিয়া ১ নম্বর চক্রের তিলকা মাঝি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক দীপনারায়ন নায়ক

তিনি জানান , কোভিড পরিস্থিতিতে দীর্ঘ প্রায় পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে স্কুল (School)বন্ধ হয়ে গেছে । মাঝে মাঝেই তিনি পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের চাল সহ অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দিতে গিয়ে লক্ষ্য করেন যে পড়ুয়ারা অনেকেই এইসময় উৎশৃঙ্খল জীবনযাপন করছে। ফলে ওই সকল পড়ুয়ারা আগামিতে আর স্কুলমুখী হবে কি না , তা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সেই ভাবনা থেকেই প্রতি এলাকায় গিয়ে পৃথক পৃথকভাবে পড়ুয়াদের শিক্ষাদানের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। আদিবাসী ছাত্র-ছাত্রীদের পাড়ায় পাড়ায় পৌঁছে পৃথক পৃথক সময়ে পঠন পাঠনের সাথে কিভাবে সুস্থ দেহ-মন গঠন করবে তারা সেই বিষয়ে সহজ পাঠ দেন দীপনারায়নবাবু । আদিবাসী পাড়ার অলি-গলি, গাছের ছায়া কিংবা রাস্তার ধারই এখন হয়ে উঠেছে শিক্ষকের লকডাউন স্পেশাল স্কুল (School)

শুধুমাত্র পড়াশোনা শিখিয়ে ক্ষান্ত হননি , পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়ারা কিভাবে করোনা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখবে , কি কি উপায় অবলম্বন করে করোনা থেকে মুক্ত থাকা যায় সে সকল বিষয়গুলিও শেখাচ্ছেন তিনি । বিশেষ এই স্কুলে (School) আরো ৩ জন শিক্ষক থাকলেও দীপনারায়নবাবু নিজের উদ্যোগে ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। শিক্ষকের এই বিশেষ উদ্যোগে খুশি স্কুলের পড়ুয়ারাও। একইভাবে খুশি পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও। তারা জানান, এই পরিস্থিতিতে তাদের সন্তানরা নামিদামি স্কুলে না পড়ার কারনে তাদের পড়াশোনার জন্য সেভাবে এগিয়ে আসে নি কেউ। দীপনারায়নবাবু প্রথম যিনি আদিবাসীপাড়ার ওই পড়ুয়াদের কথা ভেবেছেন।

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটের যুগে নামিদামি স্কুলের (School) পড়ুয়ারা ই-লার্নিং এর মাধ্যমে তাদের পড়াশোনার সুযোগ পেলেও আদিবাসী অসহায় হতদরিদ্র এই সকল পরিবারের পড়ুয়াদের শিক্ষা গ্রহণের কোনো ব্যবস্থাই নে। যার ফলে একশ্রেণীর পড়ুয়ারা দীর্ঘদিন ধরে স্কুল থেকে দূরে সরে গেছে । ব্যস্ত হয়ে পড়েছে পরিবারের কাজ বা রোজগারে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল ছুটের সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞমহল।সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে দীপনারায়ণ বাবুর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

এই মুহূর্তে

x