29.5 C
Durgapur
Sunday, January 24, 2021

মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৬ বছর পরও মেলেনি সরকারি সাহায্য, শহীদ পরিবারের ভবিষ্যৎ এখনো অথৈ জলে

নিজস্ব প্রতিনিধি, জেলার খবর, সিউড়ি : গাল ভরা প্রতিশ্রিতিই সার। দীর্ঘ ছয় বছর কেটে গেলেও আজও মেলেনি সিউড়ির শহীদ পরিবারে (Martyr’s family) কোনো রকম সরকারি সাহায্য। যেখানে স্বয়ং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মাননীয়া মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে মাও মোকাবিলা করতে গিয়ে শহীদ হাওয়া জওয়ানের তথা নিরুদ্দেশ হওয়া পরিবার (Martyr’s family) পিছু ২ লক্ষ্য টাকা এবং পরিবার পিছু একজনের সরকারি চাকরির। সেখানে আজ অবদি গালভরা প্রতিশ্রীতি ছাড়া মেলেনি কোনো রকমের সরকারি সাহায্য।

কালের চক্রে কেটেছে দীর্ঘ ছয় ছয়টা বছর। এরমধ্যে গঙ্গা দিয়ে পেরিয়েছে কত জল। মাননীয়া মুখমন্ত্রী আবারও গেছেন জঙ্গলমহল সফরে। আর এই সফরেই গত সোমবার তিনি দিয়েছেন আবারও প্রতিশ্রুতি। তিনি বলেছেন মাওবাদী হামলায় যে সকল বীর যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছেন, কিংবা আজও নিরুদ্দেশ, তাদের পরিবারের (Martyr’s family) স্বজনদের দেওয়া হবে আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও চাকরি। আর এই প্রতিশ্রুতির পরই আবারও আশার আলো দেখছেন ছয় বছর আগে মাওবাদী হানায় শহীদদের পরিবার (Martyr’s family)।

সিউড়ি 2 নম্বর ব্লকের বনশঙ্কা গ্রামের বিকাশ সূত্রধরের পরিবার। বিকাশ সিআরপিএফ এর ২০৭ কোবরা ব্যাটেলিয়নের এর একজন জওয়ান ছিলেন। ২০১৪ সাল। বিকাশ সূত্রধরের স্ত্রী সেই সময় সন্তান সম্ভবা। হবু বাবা বিকাশ সেই সময়ে ঝাড়খণ্ডের বেলপাহাড়ি থানার অন্তর্গত মাওবাদীদের কোন এক গোপন ডেরায় হানা দিয়েছিলেন তাঁর ব্যাটেলিয়নের সাথে। উদ্দেশ্য ছিল একটাই। মাওবাদী নিকেশ। এই অপারেশনে শহীদ হন পশ্চিমবঙ্গের এই বীর যোদ্ধা। সেই সময় শহীদ বিকাশ সূত্রধরের স্মরণে তাঁর গ্রামে, বিভিন্ন্য সময়ে আয়োজন করা হয়েছে স্মরণ সভা। গ্রামের মানুষ স্মরণও করেছেন তাদের প্রিয় বীর শহীদ কে। তারপর ! তারপর ধীরে ধীরে সময়ের কালে সবাই ভুলে গেছেন এই বীর শাহিদের পরিবারকে (Martyr’s family)। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আজ অবদি মেলেনি ক্ষতিপূরণের টাকা। না মিলেছে সরকারি চাকরি।

দীর্ঘ ছয় বছর বিভিন্ন্য সরকারি দফতরের চক্কর লাগিয়েও হয়নি কোন সুরাহা। শুধু পাওয়া গেছে গালভরা প্রতিশ্রুতি আর সাথে ” তারিখ পে তারিখ “। ফলস্বরূপ বর্তমানে এই বীর শাহিদ পরিবারের (Martyr’s family) অবস্থা এখন অথৈ জলে। বিকাশ সূত্রধর ছিলেন পরিবারের ছোট ছেলে। স্বভাবতই বিকাশ তাঁর দাদা পলাশ সূত্রধর ও বড়বোন পম্পার ছিলেন বড়ই আদরের। বিকাশের বাবা শরৎ চন্দ্র সূত্রধর ও মা মিনতি সূত্রধর এখন দিন গুনছেন কবে এই গালভরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবের রূপ নেবে।

শহীদ সেনা জওয়ান বিকাশ সূত্রধরের স্ত্রী ইতি সূত্রধরের দাবি শহীদ হওয়ার পর রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিলেন দু’লক্ষ টাকা এবং একটি হোম গার্ডের চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু তাদের দাবি দু লক্ষ টাকা এখনো পর্যন্ত দেওয়া হয়নি তাকে। অন্যদিকে সেই সময়ই তিনি গর্ভবতী থাকার কারণে হোম গার্ডের চাকরিটা করতে পারেননি। আবেদন করেছিলেন সন্তান প্রসব করার পর তার যোগ্যতা অনুযায়ী কোন একটি সরকারি চাকরির l কিন্তু সেই আবেদন এখনও গ্রাহ্য হয়নি। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও কোনো সদুত্তর মেলেনি। অবশেষে তিনি দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর। তাতেও কোনো সাড়া মেলেনি বলে দাবি করছেন শহীদের স্ত্রী।

পিতৃহারা সাড়ে পাঁচ বছরের সন্তান সহ বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়েই কোনরকমে পেনশনের টাকায় দিন চালাচ্ছেন এই শহীদের পরিবার। শ্বশুরমশাই পারিবারিক পেশা কাঠের কাজ করতেন আগে। বয়স হওয়ার কারণে এখন আর সে কাজ করতে পারেন না। স্বাভাবিকভাবেই খুবই কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতে হচ্ছে। পেনশনের টাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃদ্ধ শ্বশুর শাশুড়ির চিকিৎসার খরচ, ছেলের পড়াশুনার পর সংসার চালাতে গিয়ে রীতিমতন সমস্যায় পড়ছেন ইতি দেবী।

লোকে বলে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় মানবিক l তিনি শহীদ পরিবারের পাশে বরাবরই দাঁড়ান l সম্প্রতি বীরভূমের বীর শহীদ রাজেশের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যেই দিয়েছেন এবং একটি চাকরি দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, সেই প্রক্রিয়া এখন প্রায় শেষের পথে l মেদিনীপুরে মাও হানায় নিরুদ্দেশ পরিবারের পাশে থাকার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।এমনকি তাদের পরিবারের একজনের চাকরির কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তাই সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকের বনশঙ্কা গ্রামের বিকাশ সূত্রধরের স্ত্রী ইতি সূত্রধর এখনও আশাবাদী ,মুখ্যমন্ত্রী তার ঘোষণা মত দু লক্ষ টাকা আর শহীদ পরিবারের চাকরি নিশ্চই দেবেন এই পরিবারকে।

এই মুহূর্তে

x

php shell shell indir hacklink ko cuce