33 C
Durgapur
Saturday, April 17, 2021

শান্তিনিকেতনে অশান্তির জের, রেহাই পেলেননা ১ টাকার ডাক্তারবাবুও

শুভময় পাত্র, জেলার খবর, বীরভূম : শান্তিনিকেতনে বুধবার একদল দুষ্কৃতী যা ঘটনা ঘটালো তাতে যেন সমগ্র রাজ্যবাসীর আজ লজ্জায় মাথা হেঁট হবার মতন ঘটনা। বিশ্বভারতীর শান্তিনিকেতনের মেলা মাঠে পাঁচিল দেওয়ার ঘটনাকে সমর্থন করার অপরাধে বোলপুরের তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গের গর্ব ১ টাকার ডাক্তারবাবু অর্থাৎ ডাঃ সুশোভন বন্দোপাধ্যায়ের (Sushovan Banerjee) মূর্তিতে কেউ বা কারা সকাল সকাল কালি লেপে দিয়ে গেলেন। এই কালি শুধুমাত্র তাঁর মূর্তিতেই লাগানো হলো না, লেপা হল গোটা রাজ্যবাসীর মুখে। সুশোভনবাবু (Sushovan Banerjee) পাঁচিল দেওয়ার ঘটনায় বিশ্বভারতীকে সমর্থন করায় একপ্রকার অসন্তুষ্ট হন এলাকার ব্যবসায়ী মহল। এরপরই এই ঘটনা ঘটল।

বুধবার সকালে বোলপুরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হরগৌরী তলায় স্বনামধন্য পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত বোলপুরের বিশিষ্ট ডাক্তার সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় (Sushovan Banerjee) আবক্ষ মূর্তিতে কালিমালিপ্ত করায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে সারা বোলপুর জুড়ে।কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো অন্ধকারে। পদ্মশ্রী সম্মানে সম্মানিত হওয়ার পর ডক্টর সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Sushovan Banerjee) শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জেলা তৃণমূলের অনুপ্রেরণায় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়ার্ড কমিটির পক্ষ থেকে তার বাড়ির পাশেই রাস্তার ধারে আবক্ষ মূর্তি তৈরি করা হয় ডাক্তারবাবুর (Sushovan Banerjee)। আর সেই আবক্ষ মূর্তি আজ কালিমালিপ্ত দেখে রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়ে বোলপুরের আপামর বুদ্ধিজীবী মানুষজন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা যায় বিগত বেশ কয়েকদিন ধরে বিশ্বভারতীর মেলার মাঠের প্রাচীর তোলাকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল তাতে ডাক্তারবাবুর ভূমিকা কখনো বিশ্বভারতীর পক্ষে আবার কখনো বোলপুরের সাধারণ জনগণের পক্ষে এমনটাই লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেহেতু সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্বভারতীর প্রাক্তন কর্মসমিতির সদস্য সে ক্ষেত্রে বিশ্বভারতীর হয়ে কথা বলাটাই স্বাভাবিক, আবার অন্যদিকে বোলপুরের বাসিন্দা হিসেবে,বোলপুরবাসীর হয়ে কথা বলাটাও ফেলে দেওয়ার নয়। আর এই কারণেই হয়তো আজ কালিমালিপ্ত হতে হলো ডক্টর সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায় আবক্ষ মূর্তিকে, এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল। যদিও এই ঘটনার পিছনে কে বা কারা দায়ী তা খতিয়ে দেখছে বোলপুর থানার পুলিশ।

পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে পৌষ মেলার মাঠে পাঁচিল দিচ্ছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এই পাঁচিল দেওয়ার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি অনেকেই। তা নিয়ে রীতিমতো উত্তপ্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। মিছিল, পাল্টা মিছিল, বিক্ষোভ-ভাঙচুর চলছে। এই ভাঙচুরের ঘটনায় রাজনৈতিক ইন্ধনেরও অভিযোগ উঠেছে। এরপরই গোটা ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেই দাবিতে এ দিন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও শিক্ষামন্ত্রকে চিঠি দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পাঁচিল ভাঙার বিরোধিতা করেছিলেন পদ্মশ্রী প্রাপক সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “শান্তিনিকেতন নিজের জায়গায় পাঁচিল দিচ্ছে, তাতে কারোর আপত্তি থাকতে পারে না।” একইসঙ্গে তিনি শান্তিনিকেতনের ডাকবাংলো মাঠের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। বলেন. “জেলা পরিষদ তো ওই মাঠ ঘিরে দিয়েছিল। তখন আমি বিরোধিতা করেছিলাম। তখন কেউ এগিয়ে আসেনি।” তাঁর এই মন্তব্যের জেরে ক্ষুব্ধ হন শান্তিনিকেতনের আমজনতা। এরপরই এই বিপত্তি ঘটল। ঘটনা প্রসঙ্গে সুশোভনবাবুর প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি। উল্লেখ্য, পদ্মশ্রী পাওয়ার পর শান্তিনিকতনের সাধারণ মানুষ সুশোভনবাবুর আবক্ষ মূর্তিটি বসিয়েছিলেন। এদিন সেই মূর্তিতেই কালি ছেটানো হল।

বিশ্বভারতীর জট কাটাতে আজ বৈঠক ডেকেছেন জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা। কিন্তু সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা হাজির থাকবেন না বলে সোমবারই জানিয়ে দিয়েছিল। তারপরেও সেই বৈঠক এখনও বাতিল করেনি প্রশাসন।

এই মুহূর্তে

x