33 C
Durgapur
Saturday, April 17, 2021

চলে গেলেন চাণক্য…

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: টানা ২১ দিনের লড়াই শেষ , মৃত্যুর কাছে হার মানলেন দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee) । সোমবার দিল্লির সেনা হাসপাতালে ৮৪ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

গত ৯ ই অগাস্ট বাড়ির বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee)। পরের দিন অর্থাৎ ১০ অগস্ট দিল্লির সেনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে । সেখানে ভর্তি হওয়ার পরেই করোনা সংক্রমিত হন তিনি। নিজেই ট্যুইট করে সেকথা জানান। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় করোনা সংক্রমিত অবস্থাতেই মস্তিকের অস্ত্রোপচার হয় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির । তারপর থেকেই কোমায় আচ্ছন্ন ছিলেন , রাখা হয়েছিল ভেন্টিলেশনে। বেড়েছিল ফুসফুসের সংক্রমণ।

সোমবার সকাল থেকেই শারীরিক পরিস্থিতির অনেকটাই অবনতি ঘটে। আর বিকেলেই আসে সেই দুঃসংবাদ। বাবার মৃত্যু সংবাদ ট্যুইট করে জানান প্রণবপুত্র অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। এরপরেই শোকস্তব্ধ গোটা দেশ। কংগ্রেস শিবিরের পাশাপাশি প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির প্রয়ানে শোকপ্রকাশ করেছেন দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী , স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় , প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সহ অন্যান্যরা। সিপিএম পলিটব্যুরোর তরফেও গভীর শোক প্রকাশ করা হয় । প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukherjee) মৃত্যুতে আগামী ৭ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে পর্যন্ত দেশের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee)। লড়াকু এই নেতার রাজনৈতিক জীবনে ওঠা পড়ার কাহিনী অত্যন্ত রোমাঞ্চকর । বীরভূমের অখ্যাত মিরিটি গ্রাম থেকে রাইসিনা হিলস , সফরের প্রতি বাঁকে লুকিয়ে রয়েছে অজস্র ঘাত-প্রতিঘাত, সংগ্রাম।

১৯৬৯ সালে মেদিনীপুর বাই ইলেকশনে প্রচারের জোরে প্রণব মুখোপাধ্যায় একা হাতে জিতিয়ে দিয়েছিলেন ভি কে কৃষ্ণ মেননকে। তারপরই ইন্দিরা গান্ধীর নজরে আসেন । কার্যত ইন্দিরা গান্ধী হাত ধরেই জাতীয় কংগ্রেসে প্রবেশ তাঁর। ১৯৬৯ থেকে ২০০২ টানা রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন এই বঙ্গসন্তান। ১৯৭৩ সালে ইন্দিরা ক্যাবিনেটের কেন্দ্রীয় ডেপুটি শিল্প উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন।দেশের ইমার্জেন্সি পরিস্থিতিতেও ইন্দিরা ক্যাবিনেটে সক্রিয় ছিলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়।কিন্তু ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর ক্যাবিনেট থেকে ছেঁটে ফেলা হয় তাঁকে।

একরাশ অভিমান নিয়ে ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রীয় সমাজবাদী কংগ্রেস নাম নিজের দল প্রতিষ্ঠা করেন প্রণব মুখোপাধ্যায় (Pranab Mukherjee) । যদিও তিন বছর পর ১৯৮৯ সালে রাজীব গান্ধীর মধ্যস্থতায় ফের জুড়ে যায় দুই কংগ্রেস। রাজীব গান্ধী মৃত্যুর পর ফের বদল আসে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে।

দলের যে কোনো আপদে বিপদে অভিভাবকের মতো আগলে রেখেছিলেন এই ক্রাইসিস ম্যানেজার। মনমোহন জমানায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলেছেন । প্রতিরক্ষা, ফের অর্থ এবং বিদেশ মন্ত্রী ছিলেন । সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একাধিকবার পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন দক্ষতার সঙ্গে। দীর্ঘ রাজনীতি জীবনে কোনওদিন ব্যক্তি আক্রমণ শোনা যায় নি তাঁর গলায়। আর সেই কারণেই দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের (Pranab Mukherjee) সুসম্পর্ক ছিল ।

২০১২ সালের ২৫ জুলাই সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক মনোনীত হন বাংলার সন্তান। ২০১৭ সালের ২৫ জুলাই রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ শেষ হয় তাঁর, নতুন রাষ্ট্রপতি হন রাম নাথ কোবিন্দ।গত বছরই ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা হয় তাঁকে। আজ ৩১ অগাস্ট মৃত্যুর কাছে হার মানলেন লড়াকু এই রাজনীতিক। চলে গেলেন চানক্য…

এই মুহূর্তে

x