33 C
Durgapur
Saturday, April 17, 2021

খোয়াইয়ের দেশে জঙ্গলের মাঝে হয়ে আসছে হিরালিনী দুর্গোৎসব

শুভময় পাত্র, বীরভূম: জঙ্গলের মাঝে মনোরম পরিবেশ, চারিদিকে সবুজ গাছেদের সারি , নাম না জানা পাখির ডাক তারই মাঝে দুর্গাপুজোর (Durgapujo) আয়োজন। শান্তিনিকেতনের বনেরপুকুর ডাঙার দুর্গাপুজোর আয়োজন হয় এমনই এক পরিবেশে । খোয়াইয়ের পথ ধরে বেশ খানিকটা পথ যাওয়ার পরেই দেখা মেলে বল্লভপুরের বনেরপুকুর ডাঙার এই বিখ্যাত আদিবাসী পুজোর ,যার নাম হিরালিনী দুর্গোৎসব। প্রয়াত শিল্পী বাঁধন দাসের পুজো বলেও খ্যাত এই দুর্গাপুজো ।

শান্তিনিকেতন সম্বন্ধে যারা অল্প বিস্তর জানেন তারা সকলেই জানেন, বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতনে ব্রাহ্ম ধর্ম অনুযায়ী কোনওরকম মূর্তি পুজো হয় না। বিশ্বভারতীর উপাসনা গৃহ বলে আমরা সকলে যেটা জানি সেখানেও কিন্তু কোন মূর্তি পাওয়া যায় না। কিন্তু বাইরের পর্যটকরা অনেকেই পুজোর ছুটিতে শান্তিনিকেতনে আসেন । তাদের কাছে এই পুজো (Durgapujo) অন্য আকর্ষণ।

প্রয়াত শিল্পী বাঁধন দাস সোনাঝুরির পাশে বনেরপুকুর ডাঙা গ্রামে চালা করে সূচনা করে এই দুর্গাপুজোর(Durgapujo) । চিরাচরিত প্রতিমা নয় , কখনও বাঁশ কেটে রঙ করে প্রতিমা কোনবার আবার ঢালাই লোহার অবয়ব দিয়ে তৈরী হয় মাতৃমূর্তি।শিল্পকলার অনবদ্য সেই সৃষ্টি দেখে চোখ আটকে যায় গোটা রাজ্যের শিল্প অনুরাগীদের। তবে পুজো শেষে বিসর্জন নয়, সংরক্ষণ করা হয় প্রতিমা।

২০০১ সাল থেকে সোনাঝুরি জঙ্গলে এই পুজোর সূচনা করেন কলাভবনের প্রাক্তন অধ্যাপক বাঁধন দাস। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে এই পুজোর দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আশীষ ঘোষ। পুজোর চার দিন ছাড়াও মূর্তি তৈরি থেকে মণ্ডপসজ্জা সকল ক্ষেত্রেই ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকেন স্থানীয় বনেরপুকুর ডাঙ্গার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন । পুজোর সমস্ত রকম কাজকর্মেও তারা হাত লাগান , তাই এই পুজো অনেকের কাছে আদিবাসীদের দুর্গাপুজো (Durgapujo) বলেও পরিচিত।

বনেরপুকুর ডাঙা, ফুলডাঙা, সরকারডাঙা, আর বল্লভপুর ডাঙা- মোট চারটি গ্রামের মানুষরা মিলিত হন এই উৎসবে। বাইরে গড়া হয় মঞ্চ। চারদিন ধরে চলে যাত্রাপালা , আদিবাসী নাচ-গান সঙ্গে বাউলের মেঠো সুর, সব মিলিয়ে এক অন্য মাত্রা পায় এখানকার পুজো

যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে সোনাঝুরি জঙ্গলের বেশ কিছুটা অংশ এখন বেসরকারি রিসোর্ট দখল করে নিয়েছে। তৈরি হয়েছে রেস্টুরেন্ট । সোনাঝুরি জঙ্গল জমজমাট হওয়ার কারণে এখন বাইরে থেকে বহু পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন । সোনাঝুরির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর তার সাথে শনিবারের হাটে কেনাকাটা , বাড়তি আনন্দ দেয় পর্যটকদের। আর পুজোর ছুটিতে উপরি পাওনা হিসেবে মেলে শিল্পীর কল্পনায় তৈরি জঙ্গলের মধ্যে এক অন্য ধরনের দুর্গাপ্রতিমা দর্শনের সুযোগ।

গতানুগতিক দুর্গা প্রতিমাকে একরকম পাশে রেখে পুরো অন্য কায়দায় শিল্পীসুলভ মানসিকতায় তৈরি এখানকার প্রতিমা। আশীষবাবু জানান, অন্য বছরগুলিতে দূর দূরান্ত থেকে পর্যটকরা এসে ভিড় করলেও এবছর হয়তো ততটা হবে না। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়ে ঘটা করে না হলেও সরকারি বিধিনিষেধ মেনে এবারে দুর্গা আরাধনায করবেন তারা। তবে খোলামেলা জায়গার দরুন সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এখানে খুব একটা অসম্ভব হবে না বলে মনে করেন আশীষবাবু।

এই মুহূর্তে

x