14.8 C
Durgapur
Tuesday, January 19, 2021

দোদুল্যমান কলকাতা এয়ারপোর্টের বিমান, সৌজন্যে আমফান

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর : এখনো সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভাসছে কলকাতা বিমান বন্দরের কর্মীদের। ১৩৩ কিমি বেগে বওয়া ঝরে রীতিমতন দোদুল্যমান কলকাতা এয়ারপোর্টের বিমান, সৌজন্যে আমফান।

প্রতিদিনের মতোই কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সারি সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল বিমানগুলি। করোনার জেরে লকডাউন চলার জন্য এমনিতেই সংখ্যায় বেশি দাঁড়িয়ে থাকা বিমানের। আর সুপার সাইক্লোনের আগমনী বার্তার ফলে জরুরি পরিষেবার জন্য ব্যবহৃত কোন বিমান ও এদিন ওড়েনি আকাশে। পুরোপুরি বন্ধ ছিল বিমান ওঠানামা। বিকেলের পর যখন আমফান আছড়ে পড়ল কলকাতায় তখন এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলো পর্যন্ত ঝড়ের গতির সামনে মাথা নত করে। দেখলে বোঝার উপায়ই নেই যে এক একটা বিমানের ওজন প্রায় ৪০ টনের ওপর। এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে থাকা বিমানগুলো কার্যত হাওয়ার ধাক্কায় উল্টে যাওয়ার জোগাড়।আর ধীরে ধীরে বৃষ্টির জলে কিছুক্ষনের মধ্যেই তাদের দেখা যায় হাঁটু জলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকতে।

বিমান বন্দর সূত্রে জানা যায়, বুধবার কলকাতা বিমানবন্দরে মোট ৪২ টি বিমান দাঁড়িয়ে ছিল।যার একেকটির ওজন ৪০ টন। ১৩০ কিমি প্রতি ঘন্টায় বয়ে চলা ঝড়ের গতিবেগের ধাক্কায় সেগুলো রীতিমত টলমল হয়ে যায়।দেখে বোঝার উপায়ই নেই যে সেগুলি আসল বিমান, খেলনার নয়। যদিও সামনের দিকে ও পিছনের দিকে আটকানো ছিল, তা সত্বেও বিমানগুলি যেভাবে দুলছিল তাতে ভয়ই পেয়ে যান এয়ারপোর্টের কর্মীরা।

 

যদিও ঝড়ের তাণ্ডব আন্দাজ করেই ১০ টি ছোট ছোট বিমানকে আগেই কলকাতা থেকে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অন্যত্র। কর্মীদের আশঙ্কা ওই বিমানগুলি থাকলে সেগুলি তো উল্টে যেতই, অন্য বিমানেরও ব্যাপক ক্ষতি হত। অনেকেই ভেবেছিলেন ঝড়ের আঘাত ভিতরে পৌঁছতে পারবে না। কিন্তু কাঁচের জানলা ভেদ করে আঘাত সহজেই পৌঁছে যায় বিমানবন্দরের ভিতরে।

Airport

টার্মিনালের সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মোটা কাঁচে সজোরে ধাক্কা মারতে থাকে ঝড়। এমার্জেন্সি ডিউটিতে থাকা কর্মীরা রীতিমত ভয় পেয়ে যান। ছাদে লাগানো ১৩৫ লম্বা স্টিলের শিটগুলো যেন ছিঁড়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমফান। রীতিমত উদ্বিগ্ন হয়ে ছিলেন কলকাতা এয়ারোপোর্টের ডিরেক্টর কৌশিক ভট্টাচার্য। যদিও আগেই খুলে নেওয়া হয়েছিল বিজ্ঞাপনের বোর্ড। সেগুলি ভেঙে পড়লে অনেক বেশি ক্ষতি হতে পারত বলে মত বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের। কার্যত থৈ থৈ করছে গোটা বিমান বন্দর। যা অবস্থা তাতে কলকাতা থেকে আগামী শুক্রবারের আগে কোন বিমান ওঠা নামা করতে পারবে না বলে অভিমত বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের। দ্রুত জল বের করার কাজ চলছে বিমান বন্দর থেকে।

এই মুহূর্তে

x