33.7 C
Durgapur
Monday, June 14, 2021

কেন্দ্রীয় কৃষি বিল প্রতিবাদ সভা তৃণমূল কংগ্রেসের

কেন্দ্রীয় কৃষি বিল প্রতিবাদ সভা তৃণমূল কংগ্রেসের

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ বুধবার বিকেলে বড়জোড়ার পখন্না ধর্মরাজ তলায় কেন্দ্রীয় সরকারের আনা কৃষি বিল বাতিল এবং দিল্লির কৃষক বিদ্রোহের সমর্থনে একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে আসেন তৃণমূল নেতা হরিপালের বিধায়ক বেচারাম মান্না। এদিন তিনি বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে এই সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ২০০৬ সালে আমরা সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন করেছিলাম। সেই সময় দোর্দণ্ডপ্রতাপ বামফ্রন্ট সরকার ও দেশের এক নম্বর নম্বর পুঁজিপতি টাটাদের বিরুদ্ধে আমরা যে লড়াই শুরু করেছিলাম তা ছিল এরাজ্যের সর্বকালের সেরা জমি আন্দোলন। কিন্তু সিঙ্গুরের কৃষকদের একাংশ চাপ সহ্য করতে না পেরে স্বৈরাচারী শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে নিয়েছিল। কিন্তু আমরা যারা ‘করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে’ শপথ নিয়ে টাটা ও বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম তাদের পাশে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মত বাংলার অগ্নিকন্যা দাঁড়াতেন তাহলে আমরা সিঙ্গুর আন্দোলন করতে পারতাম না। টাটাদের মত পুঁজি পতিদের হাত থেকে জমিও ফেরৎ পেতাম না, যদি কল্যাণ ব্যানার্জির মত আইনজীবী এবং দিল্লিতে মনু সিংভির মত আইনজ্ঞ ব্যাক্তি আমাদের পাশে না দাঁড়াতেন। তেমনি কেন্দ্রীয় সরকার যে তিনটি কালা কৃষি আইন এনেছেন তা বাতিল না করলে দেশের চরম সর্বনাশ হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এতে শুধু কৃষকদের সর্বনাশ হবে না, সর্বনাশ হবে সর্বস্তরের মানুষের। নরেন্দ্র মোদি কৃষি আইনের চুক্তি চাষের যে ফর্মুলা দিয়েছেন তা একবার চালু হয়ে গেলে ইংরেজ শাসনের নীলকরদের অত্যাচার নেমে আসবে এদেশের অন্নদাতাদের উপর। চাষি একবার পুঁজিপতিদের চুক্তিতে আবদ্ধ হয়ে পড়লে তাদের সঙ্গে আইনি লড়াই করে বেরিয়ে আসতে পারবেন না।

ত্মচতিনি বলেন, এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের পক্ষ থেকে শস্য বীমার ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে চুক্তি চাষে পুঁজিপতি বলে দেবে, আমি ক্ষতিপূরণ দেবনা। বেচারাম মান্না এদিন নরেন্দ্র মোদিকে চাঁছাছোলা চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, আপনি ২০১৪ সালে বলেছিলেন ‘আচ্ছে দিন আয়েগা’ । তা কি আছে দিন নিয়ে এলেন আপনি! সরষের তেলের ঝাঁজে মূর্ছা যাচ্ছে দেশের মানুষ। পেট্রোল ডিজেল ১০০ ছুঁই ছুঁই। পেট্রোপণ্যের এই মূল্যবৃদ্ধি কৃষকের কৃষি কাজ ব্যাহত করছে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, তিন হাজার কোটি টাকা খরচ করে সর্দার প্যাটেলের মূর্তি না গড়ে একটা শিল্প করতে পারতেন ওই টাকায়। রাম মন্দিরের পিছনে অর্থ না ঢেলে স্থায়ী সম্পদ তৈরি করলে লক্ষ লক্ষ বেকারের কর্মসংস্থান হত। কিন্তু তা না করে আপনি দেশের মানুষকে জয় শ্রীরামের পাচন গিলিয়ে মোহগ্রস্ত করে দিয়েছেন। এর ফল আপনাকে ভূগতে হবে। এই সভামঞ্চে বড়জোড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অলোক মুখার্জী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া বড়জোড়া প্রাক্তন বিধায়ক এবং বাঁকুড়া জেলা কৃষক সভাপতি আশুতোষ মুখার্জী, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কালিদাস মুখার্জি বড়জোড়া পঞ্চায়েত সমিতির কর্মদক্ষ জহরলাল বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অর্চিতা বিদ বাঁকুড়া বড়জোড়া ব্লকের কৃষক সভাপতি অশোক ব্যানার্জি বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সদস্য টিঙ্কু মন্ডল সহ অনেকে

এই মুহূর্তে

x