33 C
Durgapur
Saturday, April 17, 2021

পৌষমেলার মাঠ ঘিরে ফেলাকে কেন্দ্র করে শান্তিনিকেতনে অশান্তি অব্যাহত

শুভময় পাত্র, বীরভূম: শান্তিনিকেতনের অশান্ত পরিবেশ অব্যাহত । গতকাল অর্থাৎ ১৫ ই আগস্ট শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলা প্রাঙ্গণে (Poush Mela Ground) কংক্রিটের প্রাচীর তুলে দেওয়ার প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বিতর্ক। বহু ঐতিহ্য ও স্মৃতি বিজড়িত শান্তিনিকেতন পৌষ মেলার মাঠকে (Poush Mela Ground) ঘিরে গতকাল যে চরম অশান্তি সৃষ্টি হয় শান্তিনিকেতন ক্যাম্পাস জুড়ে তা সত্যি নিন্দনীয়।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বারবার তার বিভিন্ন কবিতা ও গানের মধ্যে দিয়ে মুক্ত পরিবেশের কথা উল্লেখ করেছেন, করেছেন স্বাধীনচেতা মনোভাবের প্রকাশ, স্কুলের চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দী না থেকে গাছের তলায় বসে স্কুল চালানোর সিদ্ধান্ত গুরুদেবের একান্তই নিজের। আর সেই শান্তিনিকেতন কে ইট-পাথরের কংক্রিটের আবদ্ধ করতে চাইছে বর্তমান উপাচার্য এমনটাই দাবি করেছেন শান্তিনিকেতন ও সংলগ্ন এলাকার প্রবীণ আশ্রমিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী মহল। আর তাদের পাশে থেকেই বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা রীতিমতো কঠোরভাবে কংক্রিটের প্রাচীর তোলার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছেন।

গতকাল বিশ্বভারতী নিযুক্ত করা ঠিকাদারের উপর চড়াও হয়েছিল ব্যবসায়ী সমিতির লোকজন, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল নির্মাণকার্য। আজ সকাল থেকেই বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ও তাদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মী ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীদের একজোট করে নির্মাণকার্য শুরু করার প্রস্তুতিতে এগিয়ে আসে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রবীণ আশ্রমিক ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য ও বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে বোলপুরের প্রাক্তন নকশাল নেতা তথা বোলপুর কোর্টের উকিল সকলে মিলে রুখে দাঁড়ায়।

এদের সকলেরই দাবি , কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত এই শান্তিনিকেতনের সম্মান নষ্ট করছে বর্তমান উপাচার্য, তিনি শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যকে নিজের দম্ভের কাছে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন, এমনটাই মনে করছেন প্রবীণা শ্রমিক তথা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী শুভলক্ষী গোস্বামী। অন্যদিকে বর্তমান পরিস্থিতি কথা মাথায় রেখে যেভাবে সারা বিশ্বজুড়ে সামাজিক দূরত্ব নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলা হচ্ছে সেখানেই বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ কেন এত লোক নিয়ে ভিড় করেছেন এখানে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা তথা আইনত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তুলেছেন বোলপুর আদালতের উকিল তথা প্রাক্তন নকশাল নেতা শৈলেন মিশ্র। আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে তথা শান্তিনিকেতন থানার সামনে এক বিশাল জনসমাগম দেখে এমনটাই মন্তব্য করেন উকিল বাবু।

প্রাচীর দেওয়া এবং না দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিরোধীদের যে চরম উৎশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয় তা সামাল দিতে না পেরে ঘটনাস্থল থেকেই একরকম পালিয়ে যান বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। বিশ্বভারতীর উপাচার্য এর কাছ থেকে কোনওরকম সদুত্তর না পাওয়ায় রীতিমতো আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে আন্দোলনকারীরা। তাদের একটাই বক্তব্য বিশ্বভারতী যতই চেষ্টা করুক, শান্তিনিকেতন মেলার মাঠকে (Poush Mela Ground) কোনভাবেই ইট-পাথরের কংক্রিটে ঘেরা যাবে না । পাশাপাশি তারা এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ারও চিন্তাভাবনা করছেন যতদিন না কোনও সদর্থক সিদ্ধান্তে উপনীত হচ্ছেন বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ।

এই মুহূর্তে

x