34.1 C
Durgapur
Wednesday, May 19, 2021

পৌষ মেলার মাঠ ‘বেশ্যাবৃত্তির’ কাজে ব্যবহৃত হয়, বিতর্কিত মন্তব্য উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর

শুভময় পাত্র, জেলার খবর, বীরভূম : শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠে প্রাচীর তোলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে যে অশান্তি দানা বেঁধেছে তাতে একপ্রকার ‘আগুনে ঘী’ ঢালার মতন কাজ করলেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের (Visva-Bharati) উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। তাঁর একটি মন্তব্যে এখন রীতিমতন উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।বিশ্বভারতীর (Visva-Bharati) উপাচার্যের মতে শান্তিনিকেতনের পৌষ মেলার মাঠে প্রধানতঃ বেশ্যাবৃত্তির কাজে ব্যবহার করা হয়। বুধবার একটি প্রেস রিলিজ এর মাদ্ধমে একথা জানান উপাচার্য্য। আর এই মন্তব্যের পরই রীতিমতন সোচ্চার রাজ্য রাজনীতির কারবারিরা। এজন্য কর্তৃপক্ষ তথা উপাচার্যকে ক্ষমা চাইতে হবে। শুক্রবার এমনটাই দাবি জানাল বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতি এবং বাংলা সংস্কৃতি মঞ্চ।

Viswabharoti

এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে রীতিমতন গলা চড়িয়েছেন বোলপুর ব্যবসায়ী সমিতি। সমিতির সম্পাদক সুনীল সিংয়ের দাবি, পৌষমেলা প্রাঙ্গন নিয়ে মিথ্যে কথা বলছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। মেলার উলটোদিকেই বোলপুর থানা। এছাড়া এই মেলার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় বেসরকারি সংস্থার হাতে। তাই গোটা মেলা প্রাঙ্গনেই নিরাপত্তা কর্মীরা থাকেন। সুনীলবাবুর কথায়, ‘‌‘‌এত নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশ থাকার পরও কেউ কীভাবে ওই ধরনের বেআইনি কাজ করতে পারে?‌ স্থানীয়রা যাঁরা মেলাপ্রাঙ্গনে পাঁচিল দেওয়ার বিরোধিতা করেছে, তাঁদের নামে মিথ্যে বলা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে এজন্য ক্ষমা চাইতে হবে।’‌’এছাড়াও সুনীলবাবু বিশ্বভারতীর উপাচার্য্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর উদ্দেশে বলেন ‘উনি একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি’

অন্যদিকে দুবরাজপুরের বিধায়ক নরেশ বাউড়ির মন্তব্য,’একজন শিক্ষিত মানুষ কি ভাবে এরকম মন্তব্য করতে পারেন? বিশ্বভারতীর একজন প্রাক্তনী হিসাবে আজ আমার লজ্জা লাগছে । ‘ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন আজ বিশ্বভারতীর (Visva-Bharati) উপাচার্যের মন্তব্যে লজ্জিত। মন্তব্য বিধায়কের।

গত সোমবার, শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠে উপাচার্য নিজে দাঁড়িয়ে থেকে পাঁচিল তোলার কাজ করছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের একাংশ রীতিমতো পে-লোডার নিয়ে গিয়ে তা ভেঙে দেয়। পড়াশোনার মুক্ত পরিবেশে কেন পাঁচিল উঠবে, এই প্রশ্ন তুলেই ভেঙে ফেলা হয় নির্মাণ। এই ঘটনা ঘিরে এবার নজিরবিহীন এক পরিস্থিতির মুখে পড়ে দেশের ঐতিহ্যমণ্ডিত কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বভারতী (Visva-Bharati)। সেই জল এখনই গড়িয়েছে অনেকটা দূর। ঘটনায় রাজনীতির রং লাগার অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে নালিশ ঠুকেছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এরপর বুধবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। সেখানেই বলা হয়, ‘‌‘‌যারা ওই মেলাপ্রাঙ্গনে অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকে, তারা যাতে সেখানে প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য মেলাপ্রাঙ্গনে পাঁচিল দেওয়ার কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মেলার মাঠের সামান্য একটি দোকান থেকে কখনও মদের বোতল, ব্যবহার করা কন্ডোম, আবার কখনও গাঁজা, ফেলে দেওয়া খাবার–দাবার পাওয়া যায়।’‌’ এরপরই বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে।

এই মুহূর্তে

x