31.9 C
Durgapur
Sunday, September 20, 2020

গুরুপূজন উৎসব কি ?

গুরু পূর্ণিমা একটি বৈদিক প্রথা যার মধ্য দিয়ে শিষ্য তাঁর গুরুকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। প্রাচীন আর্য সমাজে শিক্ষক বা গুরুর স্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা বোঝা যায় যখন ছাত্র-শিক্ষক বা গুরু-শিষ্য পরম্পরাকে সম্মানিত করতে একটি দিন উৎসর্গ করতেন। সেই সময়ের সমাজব্যবস্থায় অন্য কোনও সম্পর্ক এত গুরুত্ব পেত না। গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে বৈদিক যুগ থেকেই আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিকে বিশেষ ভাবে নির্ধারণ করে ‘গুরুপূর্ণিমা’ উদযাপন করা হয়।

গুরু শব্দটি সংস্কৃত, ‘গু’ এবং ‘রু’ এই দুটি শব্দ দ্বারা গঠিত। গু শব্দের অর্থ অন্ধকার বা অজ্ঞতা এবং রু শব্দের অর্থ আলো। অর্থাৎ যিনি অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে যান তিনিই গুরু। মনের অন্ধকারকে দূর করে শিষ্যকে আলোর পথ দেখান গুরু। কোনও কোনও সময় এই পূর্ণিমা শ্রাবণ মাসে পড়ে যায়৷ বৌদ্ধ ধর্মেও গুরুপূর্ণিমার গুরুত্ব অসীম | বলা হয়, বোধিজ্ঞান লাভের পরে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমায় সারনাথে প্রথম উপদেশ দেন গৌতম বুদ্ধ। আবার হিন্দু পুরাণে আছে শিবের মাহাত্ম্য। মহাদেব হলেন আদি গুরু। তাঁর প্রথম শিষ্য হলেন সপ্তর্ষির সাতজন ঋষি – অত্রি, বশিষ্ঠ, পুলহ, অঙ্গীরা, পুলস্থ্য,
মরীচি এবং ক্রতু ( নাম নিয়ে মতভেদ আছে)। আদিযোগী শিব এই তিথিতে আদিগুরুতে রূপান্তরিত হন। তিনি এদিন ওই সাত ঋষিকে মহাজ্ঞান প্রদান করেন। তাই এই তিথি হল গুরুপূর্ণিমা |

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ৬টি উৎসবের মধ্যে একটি অন্যতম উৎসব এটি । নাম গুরুপূজন উৎসব । এবারের এই উৎসব সরকারি বিধিনিষেধ মেনেই পালন করা হয় পশ্চিমবঙ্গের সব স্থানে । সঙ্ঘের শাখা বা মিলনের স্বয়ংসেবক রা পরম পবিত্র গৈরিক ধ্বজ কে গুরু মেনে পূজন করে আজকের দিনে। এক স্থানে একত্রিত না হয়েও কান্ফরেন্স এ প্রার্থনাও করলেন এদিন স্বয়ংসেবক রা ।

পূর্ব সঙ্ঘ প্রচারক নরেন্দ্র শেহগল বলেন এ বিষয়ে ,”পুরো বিশ্বে ভারতবর্ষই একমাত্র সনাতন রাষ্ট্র যেখানে গুরু-শিষ্য এর মত মহান এবং অতুলনীয় পরম্পরার জন্ম হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র কে পড়ানোর জন্য অধ্যাপক, শিক্ষক, ব্যাবসায়ী ক্ষেত্রে ওস্তাদ বা মাস্টার এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব বিস্তারের জন্য মহান নেতার খোঁজ বিশ্বের প্রতিটি কোনায় পাওয়া যায়, তবে শুধুমাত্র ভারতের এই পুণ্যভূমি তেই জন্ম নেন সেই সমস্ত মহান গুরু যারা মানুষ কে সম্পূর্ণ জ্ঞান প্রদান করে তাকে বিশেষ কোনো কাজের প্রতি সমর্পিত হওয়ার অনুপ্রেরণা দিতে পারেন। এই সমস্ত গুরুর শিক্ষা, শক্তি এবং তপস্যাকে আধার বানিয়েই, আমাদের দেশের অসংখ্য সাধু, মহাত্মা, যোদ্ধা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামী তাদের সম্পূর্ণ জীবন সমর্পিত করেছেন ভারতবর্ষের ধর্ম, ভূগোল, সংস্কৃতি এবং রাষ্ট্র জীবনকে রক্ষা করতে। এই গুরু পরম্পরার সৃষ্টিকর্তা ছিলেন আদি গুরু মহামুনি ব্যাসদেব। তাই ভারতবর্ষে ব্যাস পূজা উৎসব প্রচলিত রয়েছে। এই দিন বিশাল হিন্দু সমাজ (জৈন, শিখ, সনাতনী, আর্যসমাজী, শৈব, বৈষ্ণব, লিঙ্গায়েত,বৌদ্ধ ইত্যাদি)- এর অধিকাংশ হিন্দু গুরু পূজন এর পরম্পরা আস্থা এবং শ্রদ্ধার সাথে পালন করে। শ্রীগুরু এবং গুরুকুল ভারতবর্ষের সমগ্র রাষ্ট্র জীবন এর উৎপত্তিস্থল এবং রক্ষাকর্তা।

পূজ্য গুরুজী ডক্টর কেশবরাও বলিরাম হেগডেওয়ার দ্বারা ১৯২৫ সালে নাগপুরে স্থাপিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ উপরোক্ত শ্রী গুরু পরম্পরা অবিরত রাখার সংকল্পে ভারতবর্ষের রাষ্ট্র জীবনের প্রতক্ষ্যদর্শী প্রতীক পরম পবিত্র গৈরিক ধ্বজকেই আমাদের শ্রীগুরু হিসেবে স্বীকার করে নেয়। এই গৈরিক ধ্বজ কোনো সাধারণ কাপড়ের টুকরো নয়, এটি ভারতবর্ষের সনাতন রাষ্ট্রীয় প্রতীক। ভারতবর্ষের বৈভব, পতন, সংঘর্ষ এবং উত্থানের সাক্ষী এই গৈরিক ধ্বজা। তাই বলা হয় “গৈরিক ধ্বজ নিশ্চিতভাবেই ভারতবর্ষের আদর্শ, আকাঙ্ক্ষা, এর ইতিহাস এবং পরম্পরা তথা দেশের বীর এবং ঋষিগণের শৌর্য এবং তপস্যার সর্বোচ্চ বন্দনীয় এবং জাজ্বল্যমান প্রতীক “। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উদয় হয় যে সঙ্ঘ কেন কোনো ব্যক্তিবিশেষ বা কোনো পবিত্র গ্রন্থ কে শ্রীগুরু হিসেবে স্বীকার করেনি? এর উত্তর ভীষণ সোজা। সঙ্ঘের উদেশ্য ভারতবর্ষের সর্বাঙ্গীন বিকাশ এবং স্বাধীনতা। কোনো একজন ব্যক্তি বা গ্রন্থ তা যতই মহান হোক না কেনো, সমস্ত রাষ্ট্র জীবন এবং অতীত থেকে বর্তমান পর্যন্ত সময়ের প্রতিবিম্ব এবং প্রতীক হয়ে উঠতে পারেনা। কোনো একজন মহাপুরুষ বা একটি মহাগ্রন্থ ভারতবর্ষের বিবিধ জাতি, রীতি, ভাষা এবং পূজাপদ্ধতি র প্রতিনিধিত্ব করতে সমর্থ নয়। সময়ের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষার তাগিদে ভারতবর্ষে অনেক সম্প্রদায়, বিচারধারা এবং পন্থের উদয় হয়েছে। এদের প্রত্যেকের নিজ নিজ শ্রী গুরু এবং পবিত্র গ্রন্থ ও রয়েছে। ভারতের ধর্ম এবং সংস্কৃতি তে এইরূপ স্বাধীনতাই বর্তমান। এগুলো ভারতবর্ষের বিভিন্নতা নয়, বরং বিবিধতা। এই বিবিধতাই ভারতবর্ষের রাষ্ট্র জীবনের আধার। পবিত্র গৈরিক ধ্বজ এই বিবিধতা কেই জুড়ে রাখার, সর্বাঙ্গীন সুরক্ষিত রাখার ক্ষমতা ধারণ করে।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের কার্য এবং উদেশ্য ব্যক্তি, পরিবার, আশ্রম বা সংস্থাকেন্দ্রিক নয়, সমাজ এবং রাষ্ট্রকেন্দ্রিক। এমনিতে ব্যক্তি যেকোনো সময়ে পথভ্রষ্ট, উদ্দেশ্যভ্রমিত এবং সংকটজনক পরিস্থিতিতে দোদুল্যমান হয়ে উঠতে পারে। একই ভাবে যে কোনো পবিত্র মহাগ্রন্থ সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তিত করতে অসমর্থ। গ্রন্থ নিজের সম্প্রদায় কে সঞ্চালন এবং দিশা নির্দেশ করতে পারে কিন্তু কোনো বিশাল রাষ্ট্রজীবন কে নিজের মধ্যে ধারণ করতে পারেনা। অতঃপর ভারতবর্ষে সৃষ্ট সমস্ত মহাপুরুষ, সাধু, যোদ্ধা, গ্রন্থ এবং নেতাদের সনাতন কাল থেকে প্রেরণাদায়ী একমাত্র গৈরিক ধ্বজই কার্যকরী। সঙ্ঘের কার্য এবং উদেশ্য রাষ্ট্রকেন্দ্রিক। আর রাষ্ট্র হলো একটি সাংস্কৃতিক একতার নাম। দেশ হলো একটি ভৌগোলিক একতার নাম আর রাজ্য হলো রাজনৈতিক একতার মাপকাঠি আর সরকারের প্রশাসন চালানো হলো একটি এজেন্সি চালনার মতো। গৈরিক ধ্বজ ভারতবর্ষের রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতির প্রতীক এবং তাই এটি ভারতের সাংস্কৃতিক ধ্বজা। জাতি, পন্থ কিংবা ভৌগোলিক ক্ষেত্রের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক যখন নিজেদের এই শ্রীগুরু গৈরিক ধ্বজের পুজো করে তখন তা জাতিগত বা ব্যক্তিগত নয়। গৈরিক ধ্বজের বন্দনার অর্থ ভারতবর্ষের সমস্ত ধর্মগ্রন্থ, মহাপুরুষ, অবতার, ধর্মরক্ষক, ধর্মগুরু, দেব-দেবী, মহান যোদ্ধা এবং চৈতন্যময়ী দেবী ভারতমাতার পুজা। আধুনিক ভাষায় ৩৩ কোটি দেব-দেবীর পুজা। এখানে এটাও মনে রাখতে হবে যে গৈরিক রং এবং গৈরিক ধ্বজা কে কোনো কালখন্ডে বাঁধা যায়না। যখন হিন্দু মুসলিম বা ক্রিশ্চান নামের আড়ালে মানবতা বিভক্ত হয়নি, সেই লক্ষ কোটি বছর আগে থেকেই গৈরিক রং এবং গৈরিক ধ্বজা উপস্থিত ছিল। বেদে এই গৈরিক ধ্বজ কে “অরুণ কেতবা: ” বা সূর্যের রথ বলা হয়েছে। অতঃপর ভারতের সমস্ত জাতি এবং ধর্মের আদি রং এবং ধ্বজা গৈরিক ই ছিল। এই গৈরিক ধ্বজের ছত্রছায়া এবং প্রেরণাতেই ভারতীয়রা নিরন্তর ১২০০ বছর ধরে বিদেশি আক্রমণ এর বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করেছে। একই ভাবে স্বয়ংসেবক এই গৈরিক ধ্বজ কে নিজের শ্রী গুরু মনে করে বলিদান, ত্যাগ, তপস্যা এবং সেবার প্রেরণা লাভ করে।

উপরোক্ত ব্যাপারে এটাও স্পষ্ট করে বলা আবশ্যক যে ত্রিরঙা পতাকা হলো আমাদের রাষ্ট্রীয় ধ্বজা। সঙ্ঘ এটা স্বীকার করে। সম্মান করে। সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক যারা এই ত্রিরঙা পতাকার সম্মান রক্ষার্থে জম্মু-কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ, গোয়া, নগর হাভেলী, হুগলি ইত্যাদি স্থানে প্রাণ বলিদান দিয়েছিলেন এবং একইভাবে ভবিষ্যতেও এই ত্রিরঙা পতাকা র সম্মান রক্ষার্থে জীবন আহুতি দিতে পিছু হটবে না। কিন্তু এই সত্যটাও অস্বীকার করা যায়না যে ত্রিরঙা যদি রাষ্ট্রের শরীর হয়, গৈরিক ধ্বজ হলো এর আত্মা। অতঃপর গৈরিক ধ্বজ সনাতন কাল থেকে চলে আসা ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক ধ্বজ এবং ত্রিরঙা পতাকা বর্তমান ভারতের রাষ্ট্র ধ্বজ। রাষ্ট্র ধ্বজ ত্রিরঙা পতাকার সামনে সঙ্ঘের স্বয়ংসেবক যেমন সমস্ত ভারতবাসীর মতই নতমস্তক হয়, তেমনই সমস্ত ভারতবাসীর উচিৎ গৈরিক ধ্বজের সামনে স্বয়ংসেবকদের সাথে নতমস্তক হওয়া।”

এই মুহূর্তে

‘দিল্লির বঞ্চনা’র প্রতিবাদে কোতুলপুরে তৃণমূলের মহামিছিল

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ কেন্দ্র সরকারের বাংলার প্রতি বঞ্চনা এবং জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে রবিবার কোতুলপুরে মহামিছিল (Rally) করল তৃণমূল। নেতৃত্বে ছিলেন পঞ্চায়েত ও...

পুকুরের জলে ডুবেছে রাস্তা , সমস্যায় স্থানীয়রা

সোমনাথ মুখার্জী, পান্ডবেশ্বর: পান্ডবেশ্বরের নবগ্রাম পঞ্চায়েতের কুমারডিহি গ্রামের রুইদাস পাড়ায় পুকুরের (Pond) জল পার ছাপিয়ে চলে এসেছে রাস্তায়। যাওয়া আসার পথে...

বিতর্কিত প্রাচীর ইস্যুতে হাইকোর্টের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক বিশ্বভারতীর

শুভময় পাত্র, বীরভূম: শান্তিনিকেতনের মেলার মাঠ ঘেরা বিতর্ক নিয়ে এবার হাইকোর্টের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসলো বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ (Visva-Bharati)। প্রসঙ্গত...

রাজ্যে সক্রিয় হচ্ছিল আল কায়দার নেটওয়ার্ক! ৪ জেলায় মডিউল বানিয়ে চলছিল হামলার ছক

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: রাজ্যে সক্রিয় আল কায়দার (Al Qaeda)নেটওয়ার্ক ! দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর উপর হামলার চক ছিল জঙ্গিদের, ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের পর এমনই...

বাবুল সুপ্রিয়ের বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ, নোটিস পাঠালেন অভিষেক

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: বাবুল সুপ্রিয়ের (Babul Supriyo)বিরুদ্ধে বক্তব্য বিকৃত করার অভিযোগ এনে আইনি নোটিস পাঠালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংসদদের মধ্যে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ! আগেই শেষ হতে পারে বাদল অধিবেশন

ডিজিটাল ডেস্ক, জেলার খবর: সাংসদদের মধ্যে বাড়তে থাকা করোনা সংক্রমণের জের ! নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হতে পারে সংসদের (Parliament) বাদল অধিবেশন।...

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় সর্বোচ্চ ৫ বছর জেল!

ডিজিটাল ডেস্ক , জেলার খবর: চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলা রুখতে কড়া বিল পাস হল রাজ্যসভায় (Rajya Sabha) । যেখানে বলা হয়েছে,...

হোমের শিশুদের হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দিয়ে ‘সেবা সপ্তাহ’ পালন বিষ্ণুপুর বিজেপি যুব মোর্চার

নরেশ ভকত, বাঁকুড়াঃ প্রধানমন্ত্রীর ৭০ তম জন্মদিন উপলক্ষে ৭ দিন ধরে সেবা সপ্তাহ পালনের কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। ১৪ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত...